
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন। তাঁর মতে, সরকার নীতিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে, তবে পর্যটনের নেতৃত্ব, বিপণন ও ব্র্যান্ডিংয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সম্ভাবনা থাকলেও সমন্বয় ও যোগাযোগের ঘাটতির কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে এ খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। কোথায় বিনিয়োগ প্রয়োজন, কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা দরকার—এসব চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে ইতিবাচক প্রচার বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অন্যান্য ইতিবাচক দিক বিশ্বের সামনে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনার বিষয়েও গুরুত্ব দেন মীর হেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, এ অঞ্চলে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। নতুন নতুন এলাকাকে পর্যটনের আওতায় আনা সম্ভব হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আরও গন্তব্য তৈরি হবে।
বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের লাগেজ ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোতে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব সেবা বেসরকারি খাত দক্ষতার সঙ্গে দিতে পারে, সেখানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। পর্যটন উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত করতে অটোমেশন ও অনলাইন সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন মীর হেলাল। তাঁর মতে, এ খাতের উন্নয়নে একাধিক মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
কক্সবাজারসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটন পুলিশের সক্ষমতা ও জনবল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি। পর্যটন এলাকায় নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত করা হলে তাদের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ সরকারি কর্মকর্তা, পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সামীমুজ্জামান।