
বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করতে নিয়মিত পরামর্শ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহের ফাঁকে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম সোবার্স এতে সই করেন।
সমঝোতার আওতায় দুই দেশ নিয়মিতভাবে নিজেদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ ও জি-৭৭সহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে অংশীদার হিসেবে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্রুত একটি কারিগরি বৈঠক আয়োজনের জন্য ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা চান বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত কারিগরি আলোচনায় ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ন্যাশনাল গ্যাস কোম্পানি, আটলান্টিক এলএনজি, ফিনিক্স পার্ক গ্যাস প্রসেসরস এবং অ্যামোনিয়া বা সার উৎপাদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক মনোযোগ অব্যাহত রাখতে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। দেশটি ২০২৭-২৮ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ক্রিকেটকেও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে যুব ও নারী ক্রিকেট, কোচিং, ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং ক্রীড়া প্রশাসনে পারস্পরিক বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছেন হুমায়ুন কবির।
দুই পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, এই সমঝোতা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কাঠামোবদ্ধ ও কার্যকর করার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করবে।