
বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ তৈরি হওয়ার মধ্যেই চলতি নভেম্বর মাসে আরও একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব লঘুচাপের মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি মাসের মাঝামাঝি থেকে দেশে শীতের অনুভূতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিসহ আগামী তিন মাসে আট থেকে ১০টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
রোববার (১ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
এ মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমলেও সামগ্রিকভাবে তা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও, বিশেষ করে নদী অববাহিকায়, ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে দেশে আট থেকে ১০টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে। এ সময়ে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে পাঁচটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ অথবা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’তে পরিণত হয়েছে। রোববার দুপুরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর এটি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে আরও অগ্রসর হয়ে শক্তিশালী হতে পারে। এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরে ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত নামিয়ে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘণ্টায় প্রায় ২৩ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে রোববার দুপুর ১২টার দিকে গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’তে রূপ নেয়। সোমবার সকাল নাগাদ এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঝড়টি। নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকাকে সম্ভাব্য আঘাতস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।