
জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল ২০২৬’ হ্যাঁ ভোটে পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অধিবেশনে বিরোধী দল বিলের ওপর বক্তব্য দিতে চাইলে মাগরিবের আজান শোনা যায়, আর সেই সময় স্পিকার বিরতি ঘোষণা করে সংসদের পরিবেশ কিছুটা থামিয়ে দেন।
অধিবেশনে বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলের ওপর কথা বলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আজান হলে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সংসদের কার্যক্রমে বিরতি দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, মাগরিবের নামাজের জন্য আধা ঘণ্টা বিরতি দেওয়া হলো। ফিরে এসে আপনাদের কথা শুনব। নামাজটা আগে পড়ে নিন, তারপর আপনাদের কথা শোনা হবে।’ তার এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে একধরনের থমথমে কিন্তু ব্যঙ্গাত্মক হাসির আবহ তৈরি হয়, কারণ বিরোধী দলের অপেক্ষমান বক্তব্য তখন আপাতত ধর্মীয় বিরতির আড়ালে থেমে যায়।
এর আগে সংসদে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল ২০২৬’ উত্থাপন করেন। পরে বিলটি ভোটে দেওয়া হলে হ্যাঁ ভোটে তা পাস হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় বিরোধীদলের আপত্তি ও ওয়াকআউটের আবহ থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিলটি আইনে রূপ নেওয়ার পথে এগিয়ে যায়।
অন্যদিকে স্পিকারের নামাজের বিরতি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংসদে আলোচনার চেয়ে বিরতির সিদ্ধান্তই বেশি আলোচনায় আসে। বিরোধী দলের বক্তব্য দেওয়ার আগেই অধিবেশনের গতি যেন একবার থেমে গিয়ে আবার নতুন ছন্দে ফিরে যায়, যেখানে বিল পাসের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত দৃশ্যপট দখল করে নেয়।