
গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ করা থেকে শুরু করে দলীয়করণ ও অনিয়ম—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাশেদ খাঁন, যা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ দাবি করেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন হয়নি, বরং তা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনূস সরকারের সময়ে এনজিও খাতকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোও ‘মোটাতাজা’ করা হয়েছে।
রাশেদ বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন এনজিও ব্যক্তিত্ব হিসেবে সকল এনজিও ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে মোটাতাজাকরণ করে গেছেন। নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ব্যাপক মোটাতাজাকরণ করেছেন। ১৮ মাসে কি পরিমাণ দলীয়করণ, তদবির বাণিজ্য ও লুটপাট হয়েছে, তার একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ হওয়া দরকার।’
গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে তাদের ভুল সিলেকশনের কারণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্ব গণঅভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করা হয়েছে। এজন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ইতিহাসের কাছে দায়ী থাকতে হবে। তাকে কারা ভাল মানুষ বলে জানিনা, কিন্তু স্বচক্ষে দেখেছি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বৈষম্য ও বিভাজন সৃষ্টি।’
এছাড়া রাশেদ অভিযোগ করেন, ইউনূসের কিছু উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা মিলে একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ গঠন করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘তারা জনগণের স্বার্থ বিরোধী কিছু বৈদেশিক চুক্তি সম্পাদন করে গেছেন। যার খেসারত জনগণকে সারাজীবন দিতে হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জনগণের থেকে বিদেশি স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড. ইউনূস স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচন দেননি; বরং তার কাছ থেকে তা আদায় করে নিতে হয়েছে। রাশেদের দাবি, ‘তার মূল প্লান ছিলো বিএনপিকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যারা বলেন,তিনি নির্বাচন দিয়েছেন, তারা ভুল জানেন। মূলত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে নির্বাচন আদায় করে নিতে হয়েছে। সেসময় নির্বাচন বিরোধী যতো ক্যাম্পেইন দেখতেন, এগুলোর মূলে ছিলো ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত ঐ কিচেন ক্যাবিনেট। তার মূল প্লান ছিলো বিএনপিকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, তিনি তো বিদেশি গিয়ে একবার বলেও ফেলেছিলেন, নির্বাচন একটি দল ছাড়া আর কেউ চায় না। বাংলাদেশকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করে, তারা এখনো বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করতে সোচ্চার। বহু ইতিহাস আমি জানি, কিন্তু সেগুলো নানা কারণে এখনই প্রকাশ করতে পারছিনা।’