
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। তার দাবি, বিএনপি প্রতিরোধ গড়ে না তুললে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগই এনসিপির নেতাদের রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলত।
সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে রোববার নওগাঁয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপিকে উদ্দেশ করে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ভালো মতন একটু গরম দেখাই, শেখ হাসিনা তো দিল্লিতে পালাইছে, আপনি কই পালাইবেন—বঙ্গোপসাগরে? বঙ্গোপসাগরেও পালানোর জায়গা পাইবেন না।’
ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, এনসিপির এক নেতা বিএনপিকে বঙ্গোপসাগরে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন। তবে তার দাবি, বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান শিথিল করত, তাহলে আওয়ামী লীগের নেতারাই এনসিপির নেতাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতেন। তিনি আরও দাবি করেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রেও বিএনপি ভূমিকা পালন করেছে।
পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ এখনো রাজনৈতিকভাবে মাঠের বাইরে রয়েছে বিএনপির প্রতিরোধের কারণেই। তার মতে, আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করার সক্ষমতা বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেই। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের রাজনীতির স্বার্থে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়া কিছু রাজনৈতিক শক্তির নেতারা এখন সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর সরকারি সুবিধা পাওয়ার কারণে কিছু নেতার আচরণে পরিবর্তন এসেছে এবং তারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তার ভাষ্য, সরকারি প্রটোকল ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে কোনো গণআন্দোলন সফল করা সম্ভব নয়।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন আরও বলেন, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জুলাই পদযাত্রায় কেন অংশগ্রহণ কমে গেল, সেটি নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। তিনি লেখেন, "গণঅভ্যুত্থানের পরে জামায়াতের চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে, ভোটের আগে ও পরে জিকির করা যে, আমি তো শিবিরের সাথী ছিলাম! মানুষ এই নয়া ভণ্ডবস্ত বুঝতে পেরেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মোদ্দা কথা, জামায়াত নামের হাঙ্গর ইতোমধ্যে এনসিপিকে গিলে ফেলেছে।"