
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। জামায়াতের সঙ্গে দলটির ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির নেতাকর্মীদের সতর্কও করেছেন তিনি।
রাশেদ খান বলেছেন, একদিন এনসিপির নেতাকর্মীরাই আফসোস করে বলবেন—‘দুধকলা দিয়ে কালসাপ পোষলাম।’
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান দাবি করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনসিপিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। জামায়াত সহযোগিতা চাওয়ায় পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাদের গাড়িবহর নিয়ে গেছে। এমনকি সহযোগিতা চাওয়া না হলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা দিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে একটি ঝামেলা তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। তাঁর ভাষ্য, রাতে মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হয়েছিল। তবে এসব লাঠি পরবর্তী সময়ে বহরের গাড়িতে তোলা হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।
রাশেদ খান আরও বলেন, জামায়াতের বহরে থাকা শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন—‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল-যুবদল গেলি কই!’
তিনি বলেন, অনেকে পুরো বিষয়টি দেখে এমন মন্তব্য করছেন যে, জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলের ওপর নির্ভর করেই এনসিপির লংমার্চ হয়েছে।
রাশেদ খানের ভাষ্য, জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। এ কারণে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে, আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝখান থেকে খেলতে চায় দলটি।
জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতা-কর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে দেখানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন, এনসিপি আজ হোক বা কাল হোক, জামায়াতের জোট ছেড়ে দেবে। তাহলে এনসিপিকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কেন—এ নিয়ে সচেতন নেতা-কর্মীদের মধ্যে আক্ষেপ রয়েছে বলেও জানান রাশেদ খান।
জামায়াতের জোটে থাকা দলগুলোর প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, ‘শোনেন, জামায়াত জোটে কারা আছে? এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়েনি, এ জন্য জামায়াতে গেছে।
‘আর মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপিতে থাকত। এ ছাড়া বাকিরা একটি করে আসন না পেয়ে জামায়াতে গেছে। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে, এরা সবাই আবার বক্তব্য পরিবর্তন করে ব্যাক করবে।’
জামায়াত যেসব দলের ওপর ভরসা করে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করছে, তারাই ভবিষ্যতে দলটির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে জামায়াত যাদের ওপর ভরসা রেখে এত অর্থকড়ি খরচ করছে, তারাই একদিন জামায়াতকে এমন ধাক্কা দেবে যে জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না।’
এনসিপির নেতাদের অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে জামায়াতকে নিয়ে ‘জামায়াত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানচিত্রবিরোধী শক্তি’, ‘ভারতের এক্সটেনশন’, ‘সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে’, ‘জামায়াত ইসলামিক দল নয়’—এ ধরনের অনেক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে এনসিপি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করলে তা নোট করে রাখার পরামর্শও দেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কী কী বলবে সেটি নোট করার জন্য।’
সবশেষে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘মনে রাখুন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছে। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেও জনশ্রুতি আছে। আর কিছু বললাম না, শুধু এতটুকু বলব, একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পোষলাম।’