
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলাম। তাঁর ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এবার আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি নোটিশটি পাঠান। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপির পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রাথমিক সত্যতা’র দাবি
এনসিপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
ওই বক্তব্য প্রকাশের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার ওই বক্তব্যের কারণে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত—জনমনে এমন একটি ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম একটি বার্তা দেন। সেখানে তিনি তাঁর আগের বক্তব্য ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন।
একই বার্তায় সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বিষয়টি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধও করেন তিনি। তবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি।
ফলে ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়েছিল এবং জনমনে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা অব্যাহত থাকে বলে আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
৩৮ কর্মকর্তার অভিযোগ নিয়ে ভিন্ন তথ্য
আইনি নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতিও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, বাস্তবে সেই সংখ্যা ছিল ১১২ জন। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ওই ১১২ কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছিল।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়ার সঙ্গে আসিফ মাহমুদকে সম্পৃক্ত করার অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয় ১১ মে, ২০২৬।
অর্থাৎ, পদোন্নতির ঘটনাটি আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় ঘটে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৫ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি
এ অবস্থায় আইনি নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাচাই করা এবং প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্যও তাঁকে বলা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।