
রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা জেলা শাখার সাবেক সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) হাসপাতালে গিয়ে তিনি আহত শামীম আহসানের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের মেডিকেল জোনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলেন শফিকুর রহমান। আহত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের নিয়ে শামীম আহসানের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন।
হামলা, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি করছেন। এর আগে আরেক ব্যক্তির পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া বাড়িঘরে হামলা, দোকানপাটে লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। এসব ঘটনার তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, শামীম আহসানের ওপর হামলার ঘটনার পরপরই তিনি সরকারদলীয় চিফ হুইপকে ফোন করেছিলেন। এ সময় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি তাঁরা চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউকে ফুলের পাপড়ি দিয়েও আঘাত করা হোক, সেটিও তাঁরা চান না। রাজনীতি হতে হবে রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে, সহিংসতার মাধ্যমে নয়। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শ ও কর্মসূচি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, কারও কোনো বক্তব্য বা অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় সংসদে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
সব রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও তা প্রকাশ করতে হবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়। সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে নয়।