
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘটনাটি আড়াল করতে তাঁর মরদেহের ওপর সাপ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হত্যার ঘটনাকে সাপের কামড়ে মৃত্যু হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন রভিতা ও তাঁর প্রেমিক অমরদীপ।
মরদেহের ওপর সাপ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, রভিতা ও অমরদীপ মিলে রভিতার স্বামী অমিতকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে হত্যার প্রকৃত ঘটনা গোপন রাখতে তাঁর মরদেহের ওপর একটি সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে মৃত্যুর কারণ সাপের কামড় বলে মনে হয়।
তবে তদন্তে সাপটির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। দেখা যায়, সাপটির বিষদাঁত ভাঙা ছিল এবং সেটি বিষধরও ছিল না। ফলে সাপের কামড়ে অমিতের মৃত্যু হয়েছে—এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা তদন্তকারীদের কাছে সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।
নিহত অমিত ও রভিতার তিনটি সন্তান রয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালত জানান, শিশুদের দেখভালের দায়িত্ব এখন থেকে জেলা প্রশাসন পালন করবে।
রায় ঘোষণার সময় বিচারকের ক্ষোভ
রায় দেওয়ার সময় বিচারক এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে স্ত্রী স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় করবা চৌথ পালন করেন। সেখানে স্বামীর প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়।
মিরাটে একই ধরনের অপরাধের ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ডের রায়। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌরভ রাজপুতকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ টুকরো করে সিমেন্ট ও বালু দিয়ে ভরা একটি ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।