
সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ আসছে—সরকারের এমন অভিযোগের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, সীমান্ত দিয়ে টাকা, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ ঠেকাতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে কেন। তাঁর ভাষ্য, অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অক্ষম সরকারের দেশ পরিচালনার অধিকার থাকা উচিত নয়।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সভাটির আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে, এই টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র ও মাদক আসে কেন? যে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঠেকানোর যোগ্যতা নেই, সেই সরকারের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নেই।’
বিএনপির বিরুদ্ধে নতুন বয়ান তৈরির অভিযোগ
বিএনপি নতুন নতুন বক্তব্য তৈরি করে জামায়াতকে পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে। আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি! একজনের গায়ে কোনো কাপড়ই নেই, আরেকজনের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় আছে। তো যার গায়ে কাপড় নেই, সে বলছে, ওই দেখো—ওর গায়ে কোনো জামা নেই।’
নির্বাচনের সময় বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তাঁর (শেখ হাসিনার) দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি।’
আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
করের বোঝায় অতিষ্ঠ মানুষ
সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণকে কার্ড দেবেন, দিচ্ছেন, দিন। এর আগে গরিব-ধনী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার ঘাড়ে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন একটার পর একটা। মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ।’
প্রবাসীদের দেশে ফিরে আসার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জামায়াতের আমির বলেন, ‘প্রবাসে অস্থিরতার কারণে আমাদের প্রবাসীরা দেশে ফিরে আসছেন, তাদের নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। চাঁদাবাজির জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ। এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে।’
চাঁদাবাজি ও লুটপাটে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি, দখলদারি বন্ধ করতে পারেননি। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার ভাঙচুর লুটপাটের অপরাধে এমপিকে শুধু পদত্যাগ করিয়েছেন। কেন? আপনাদের আইন নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নেই? যিনি অপরাধ করলেন, তার পদত্যাগের মাধ্যমেই সব শেষ হয়ে যাবে? তাকে আইনের আওতায় আনেননি কেন।’
বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর অভিযোগ
সরকারের নানা ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তাঁর দাবি, দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতার দায় এড়াতে সরকার একটি নির্দিষ্ট বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘বলা হচ্ছে, সাত মাসের সরকার কিছু ভুলত্রুটি করেছে। কিন্তু আপনারা এত তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামলেন কেন? ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে এত তাড়াতাড়ি অগ্রাহ্য করলেন কেন? সমাজের সব জায়গা এত তাড়াতাড়ি দখলে নিলেন কেন? দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক বানিয়ে মানুষের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিলেন কেন?’
তিনি বলেন, জামায়াত বা ১১-দলীয় জোটের নিজস্ব কোনো দাবি আদায়ের জন্য তারা আন্দোলনে নামেনি; বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাদের কর্মসূচি। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা নেমেছি জনগণের অধিকারের দাবি নিয়ে। প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত।’