
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বাংলাদেশের ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি’ বা ক্রীড়া কূটনীতির অঙ্গনে এবার যুক্ত হতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান।
জাইমা রহমানের নতুন ভূমিকা
সম্প্রতি মতিঝিলে বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্রীড়া কূটনীতিকে বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এই প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কন্যার অংশগ্রহণ দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসিতে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন। আমাদের এই স্পোর্টস ডিপ্লোমেসিতে যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা জাইমা রহমান, ইন শা আল্লাহ।’
ক্রীড়া কূটনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মতে, জাইমা রহমানের এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সবার জন্য হবে এক বিশাল অনুপ্রেরণা। তিনি এই বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগের উপযোগিতা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘তিনি (জাইমা রহমান) দায়িত্ব নিলে আমাদের জন্য তা বড় উৎসাহের জায়গা হবে। স্পোর্টস ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানো সম্ভব। এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠাই আমাদের লক্ষ্য।’
সমন্বিত কার্যক্রম ও নতুন স্পোর্টস উইং
সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ক্রীড়া কূটনীতির প্রসারের গুরুত্ব অনুধাবন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি স্বতন্ত্র ‘স্পোর্টস উইং’ গঠন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ক্রীড়া সরঞ্জাম ও উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ বিনিময় এবং জাতীয় দলগুলোর দুর্বলতা দূর করে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলাই হবে এই উইংয়ের মূল কাজ।
বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে খেলাধুলার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির এই নতুন অধ্যায়টি বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।