
পাকিস্তানকে প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে দিয়ে লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে বাংলাদেশ। ওপেনার মাহমুদুল হাসানের ঝড়ো অর্ধশতকে বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকে স্বাগতিকরা। তবে সেট হয়ে যাওয়ার পরও ইনিংসটিকে বড় করতে না পারায় নতুন করে সামনে এসেছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের পুরোনো দুর্বলতা।
রোববার (১৭ মে) দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই উইকেট হারালেও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। খুররম শেহজাদের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান অভিষিক্ত তানজিদ হাসান। ৭ বলে ৪ রান করে বিদায় নেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
এরপর মুমিনুল হককে নিয়ে ইনিংস সামাল দেন মাহমুদুল হাসান। দুজন মিলে গড়েন ৫৪ রানের জুটি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন মাহমুদুল। পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে মাত্র ৫৮ বলে তুলে নেন ফিফটি। দীর্ঘ সময় পর টেস্টে অর্ধশতকের দেখা পাওয়া এই ব্যাটারকে তখন বেশ আত্মবিশ্বাসীই দেখাচ্ছিল।
অনেক দিন ধরেই টেস্টে রান খরায় ছিলেন মাহমুদুল। তাই এই ইনিংসটি ছিল তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বল সামলে ক্রিজে থিতু হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, এবার হয়তো বড় কিছুই আসছে তার ব্যাট থেকে। কিন্তু সেই আশায় পানি ঢেলে আবারও পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি।
ফিফটির পর অতিরিক্ত শট খেলতে গিয়ে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে আবদুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দেন মাহমুদুল। ৬৪ বলে ১০টি চারে ৫২ রান করে ফিরতে হয় তাকে। তার বিদায়ের সময় বাংলাদেশের লিড তখন ১৩০ রানের বেশি।
এই ইনিংস আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বাংলাদেশের ব্যাটারদের বড় সমস্যা, ভালো শুরু পেয়েও সেটিকে শতকে রূপ দিতে না পারা। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ‘ফিফটি টু হান্ড্রেড কনভার্সন রেট’ দীর্ঘদিন ধরেই হতাশাজনক। অনেকেই ফিফটি করেন, কিন্তু বড় ইনিংস গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিতে পারেন না। মাহমুদুলের ইনিংসটিও সেই আক্ষেপের তালিকায় যোগ হলো।
তবে ইতিবাচক দিকও আছে। দীর্ঘ সময় পর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেছেন তিনি। সামনে এই শুরুগুলোকে যদি শতক কিংবা আরও বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের টপ অর্ডারে স্থিতি ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন মাহমুদুল।
এর আগে দিনের তৃতীয় সেশনে দ্রুত গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। নাহিদ রানার গতির সামনে শেষ দিকে প্রতিরোধ গড়তে পারেনি সফরকারীরা। সাজিদ খান তাইজুল ইসলামকে টানা তিন ছক্কা মারলেও শেষ পর্যন্ত নাহিদের বলে থার্ড ম্যানে তানজিদের হাতে ক্যাচ দেন। রিপ্লে দেখে আউট নিশ্চিত করেন তৃতীয় আম্পায়ার।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭৮ রানের জবাবে পাকিস্তান থামে ২৩২ রানে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে বাংলাদেশ।