
টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত সংবাদকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও কঠোর নিয়ম চালু করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স’ (অ্যাটকো)। এখন থেকে কোনো গণমাধ্যমকর্মী বর্তমান কর্মস্থল ছেড়ে অন্য কোনো টিভি চ্যানেলে যোগ দিতে চাইলে আগের প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ‘অনাপত্তিপত্র’ বা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৭ মে) অ্যাটকো’র পক্ষ থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। নতুন এই নীতিমালার কারণে টেলিভিশন মাধ্যমে কর্মরত পেশাদারদের স্বাধীনভাবে কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তির কঠোর নির্দেশনা ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
অ্যাটকো’র জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জনবল নিয়োগ ও চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু কড়া নির্দেশনাবলী যুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালীন অথবা অব্যাহতির পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বা ছাড়পত্র গ্রহণ না করে অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানে চাকরি গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী, অন্য কোনও টেলিভিশন চ্যানেলে যোগদানের পূর্বে কর্মরত বা সর্বশেষ কর্মস্থল থেকে অনাপত্তিপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।’
সংগঠনটির নতুন নির্দেশনা মোতাবেক—কোনো কর্মী যদি এই নিয়ম অমান্য করে অনাপত্তিপত্র বা লিখিত ছাড়পত্র ছাড়াই অন্য কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে যোগদান করেন, তবে তা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মভঙ্গকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ প্রচলিত বিধি অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। অ্যাটকো তাদের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংগঠনের সকল সদস্য ও টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা
চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের এমন একতরফা ও বাধ্যতামূলক ছাড়পত্রের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই দেশের সংবাদকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ফোরাম ও সংগঠনে এই সিদ্ধান্তের আইনি ও নৈতিক ভিত্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেক গণমাধ্যমকর্মী এটিকে স্বাধীন পেশাদারিত্বের ওপর এক ধরনের অলিখিত নিয়ন্ত্রণ বা ‘শৃঙ্খল’ হিসেবে অভিহিত করছেন।