
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে বড় ধরনের ঝড় উঠেছে। পর্ষদ বিলুপ্ত করে তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে রেখে একটি ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই পরিবর্তনের পর আগামী ৭ জুন পুনরায় ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে। তবে এই নির্বাচনী হাওয়া গরম হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিস্ফোরক স্ট্যাটাস দিয়ে নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন বিসিবির সাবেক পরিচালক আসিফ আকবর।
নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে আসিফ আকবর অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল এবং বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে পরোক্ষভাবে নিশানা করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের মূলধারার ক্রীড়া সাংবাদিকদের একটি বড় অংশকে ধুয়ে দিতেও ছাড়েননি তিনি।
শুক্রবার (২২ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আসিফ আকবর তার ক্ষুরধার পোস্টে লেখেন, 'অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এখন যারা বোর্ড দখল করে বসে আছে তারা রাষ্ট্রের খয়রাতি ক্রিকেট মন্ত্রীর লোভী উচ্চাভিলাসের পরিণতি মাত্র।'
ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণের পর তিনি দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতার বর্তমান মান ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও কিছু সাংবাদিকদের একহাত নিয়ে তিনি আরও লেখেন, 'ক্রিকেট জার্নালিজমে এখন নৈতিকতার লেশমাত্র নেই। মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নামধারী ছাপড়িদের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ বেসিক নিউজ করা মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো। দেশের ক্রিকেটের ডেভেলপমেন্টের চেয়ে ধান্দাবাজীর হিসাব বেশি, এদের মধ্যে আবার ভারতীয় গণমাধ্যমের ঘাপটি মেরে থাকা এজেন্টও আছে, রয়েছে অনৈতিক অর্থনৈতিক উন্নতির চেরাগ।'
গণমাধ্যমের মালিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই বিসিবি পরিচালক মাঠ পর্যায়ের মূলধারার সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করার অনুরোধ জানান। তিনি লেখেন, 'মিডিয়া মালিকদের অনুরোধ করবো এদের বিসিবি থেকে মফস্বলে পোস্টিং দিন, দেশপ্রেমিক স্পোর্টস জার্নালিস্টদের কাজ করার সুযোগ দিন। এরা সারাদিন বিসিবি'র দরজার সামনে ক্যামেরা তাক করে থাকে, এদের দেখলে মাঝে মধ্যে মনে হয় গুলশান কিংবা পান্থপথ মোড়ের ভিখারীগুলার আপগ্রেড ভার্সন। কাউকে দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে আর কেটে কেটে নিউজ করে বেনামী পোর্টালে, মানুষ পায় ভুল তথ্য, বেকুবের মত দৌড়ানো শুরু করে চিলের পিছে। প্লেয়ারদের জাঙ্গি*র রং, কলার খোসা, গরুর ঝোল নিয়ে তাদের ভিভিআইপি রিপোর্ট চলে, সারা দেশের খেলার খবর প্রচারের কোন আগ্রহ এদের নেই।'
এরপর বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালের পারিবারিক পরিচয় এবং রাজনৈতিক যোগসূত্রকে ইঙ্গিত করে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আসিফ লেখেন, 'এদেরকে (ক্রীড়া সাংবাদিক) লালন পালন করে গণভবনের সেই গুপ্ত ফ্যাসিস্ট বিহারীটা, যে হাসিনা এবং পাপনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে ক্রিকেট বোর্ড দখল করে বসে আছে। বিএনপি's সর্বভূক কিছু নেতা মন্ত্রীর কয়েকটা বকনা বাছুরকে শো'পিস হিসেবে ব্যবহার করে বিসিবি'তে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে পুরনো হাসিনা, পাপন ও জয় শাহ্ তন্ত্র। এই নেপো কিডস'গুলো নিজেদের খুব যোগ্য মনে করে, কারণ ছাদে উঠতে তাদের সিড়ি লাগেনা, বাবার পরিচয়ই যোগ্যতা। মিরপুর স্টেডিয়ামের ভিতরের কুকুরগুলোও বছর বছর বাচ্চা পয়দা করে, ক্রীড়া সাংবাদিক নামধারী এসব পেইড এবং ডোমেস্টিক অ্যানিমেল গুলার অবস্থান বদলায় না।'
পোস্টের শেষাংশে আসিফ আকবর দেশের গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদক এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা 'জনতার সরকারের' কাছে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। প্রমাণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে লেখেন, 'সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের কাছে অনুরোধ, এদের খবর এবং তালিকা আমার কাছে আছে, আমি সাহায্য করবো। অতি দ্রুত এসব নষ্ট ভিউখোর এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, এদের কারণে আপনার মিডিয়া হাউস আছে উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিতে। জনতার সরকারকে বলবো, ক্রিকেট মন্ত্রী আর তিন আগস্টের গণভবনের বিহারী গুপ্তটাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করুন, প্রমাণ আমি দিবো। সাবধান হউন, সময় গেলে সাধন হবে না।'
বিসিবি নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে সাবেক এই পরিচালকের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য দেশের ক্রিকেট রাজনীতি এবং ক্রীড়াঙ্গনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও বেশি প্রকাশ্য রূপ দিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।