
তীব্র গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও খনিজ উপাদান বের হয়ে যায়। তাই এই সময়ে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা এবং সহজে হজম হয় এমন খাবার নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।
১. তরল ও হাইড্রেটিং পানীয়
নিরাপদ পানি: গরমে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো নিরাপদ পানি। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ৩ থেকে ৩.৫ লিটার (১২-১৩ গ্লাস) পানি পান করা উচিত।
ডাবের পানি ও স্যালাইন: ইলেকট্রলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের পানি দারুণ কার্যকর। তবে ডাবের দাম বেশি হলে বিকল্প হিসেবে খাবার স্যালাইন মেশানো পানি পান করতে পারেন।
লেবু পানি: সাধারণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ক্লান্তি দূর হয়। উচ্চ রক্তচাপ না থাকলে এতে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিতে পারেন।
কাঁচা আমের শরবত: কাঁচা আমে থাকা ভিটামিন-সি শরীরকে চাঙ্গা করে। তবে শরবতে মরিচ বা অতিরিক্ত ঝাল মেশানো যাবে না।
ডিটক্স ওয়াটার: সাধারণ পানির সঙ্গে শশা, গাজর, লেবুর রস ও পুদিনা পাতা মিশিয়ে তৈরি এই পানীয় ভারী খাবারের পর শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।
২. সহজে হজমযোগ্য হালকা খাবার
কম মশলাদার খাবার: গরমের দিনে তেল-মশলাযুক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। হালকা ও কম মশলার খাবার সহজে হজম হয় এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখে।
সবজি ও পাতলা ঝোল: বাজারে এখন প্রচুর হাইড্রেটিং সবজি পাওয়া যাচ্ছে। লাউ, চালকুমড়া, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, সজনেডাঁটা ইত্যাদি সবজি পাতলা ঝোল করে রান্না করে খেলে শরীরে পুষ্টির জোগান মেলে এবং গরম কম লাগে।
পাতলা সবজি স্যুপ: একদম ‘ক্লিয়ার ভেজিটেবল স্যুপ’ বা পাতলা সবজি স্যুপ গরমের দিনে শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও আরামদায়ক।
৩. ফলমূল ও দুগ্ধজাত খাবার
তরমুজ ও রসালো ফল: এই সময়ে বাজারে প্রচুর তরমুজ পাওয়া যায়, যাতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পানি থাকে। এছাড়া শশা, স্ট্রবেরি ও জাম খাওয়া যেতে পারে।
টক দই: পাকস্থলী সুস্থ রাখতে এবং হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন টক দই খান। এটি খালি, পানি দিয়ে গুলিয়ে (ঘোল বা লাচ্ছি করে) অথবা শশার সঙ্গে মিশিয়ে সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়।
ডায়রিয়া এড়াতে বিশেষ সতর্কতা
বছরের এই সময়ে খাবারে গণ্ডগোলের কারণে দেশজুড়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, ডায়রিয়ামুক্ত থাকতে নিচের বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে:
রাস্তার খোলা খাবার ও শরবত পরিহার: তীব্র গরমে রাস্তার ধারের খোলা খাবার, কেটে রাখা ফল এবং বরফ দেওয়া শরবত খাওয়া একদম বন্ধ করতে হবে। এগুলো ডায়রিয়ার জীবাণুর প্রধান উৎস।
বাসি খাবার না খাওয়া: গরমে খাবার খুব দ্রুত নষ্ট বা টক হয়ে যায়। তাই দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকা বা বাসি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: খাবার তৈরি, পরিবেশন এবং খাওয়ার আগে হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
আবহাওয়া অফিসের 'হিট অ্যালার্ট' চলাকালীন যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন এবং রোদে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করুন।