
ব্যাংকিং খাতের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বছর শেষে বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ (ক্যাশ ডিভিডেন্ড) দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন (Paid-up Capital) ২ হাজার কোটি টাকার কম থাকলে তারা শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না।
আজ শনিবার (২৩ মে) দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলতি বছর শেষে অর্থাৎ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে যে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হবে, তা থেকেই এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর ফলে, আগামী বছরের (২০২৭) শুরুতে যেসকল ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার নিচে থাকবে, তারা বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।
সর্বোচ্চ নগদ লভ্যাংশের সীমা ৫০ শতাংশ
একই সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে আরও একটি নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যাংক লভ্যাংশ দেওয়ার যোগ্য হলেও, তারা বছর শেষে মোট ঘোষিত লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ আকারে দিতে পারবে। অর্থাৎ, বাকি অংশ বোনাস শেয়ার বা অন্য কোনো উপায়ে সমন্বয় করতে হবে, যাতে ব্যাংকের মূলধন কাঠামো শক্তিশালী থাকে।
পূর্ববর্তী নীতিমালার সংশোধন
এর আগে গত বছরের (২০২৫) মার্চ মাসে এক সার্কুলার জারি করে লভ্যাংশ দেওয়ার হার নির্ধারণ করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই নীতিমালায় ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা, খেলাপি ঋণের হার (NPL) এবং নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণের হারকে প্রধান বিবেচনা হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। তবে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও মূলধন ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে এবার সরাসরি পরিশোধিত মূলধনের ওপর নির্দিষ্ট সীমা (২ হাজার কোটি টাকা) নির্ধারণ করে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে মূলধন সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো নগদ টাকা ধরে রাখতে বাধ্য হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।