
সান মারিনোর ঘরের মাঠে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলের এক রূপকথার জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপের যেকোনো দেশের ফুটবল দলের বিরুদ্ধে এটিই লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের ইতিহাসের সর্বপ্রথম ঐতিহাসিক জয়। আর বাংলাদেশ জাতীয় দলের ডাগআউটে কোচ হিসেবে বসার পর টমাস ডুলির ক্যারিয়ারেও এটি প্রথম জয়ের স্বাদ। তবে এই অবিস্মরণীয় জয়ে দারুণ খুশি হলেও দলের ভেতর লুকিয়ে থাকা বেশ কিছু গুরুতর টেকনিক্যাল দুর্বলতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন এই হেড কোচ।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কোচ ডুলি স্পষ্ট জানান, ফিনিশিং, ফার্স্ট টাচ এবং রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণ সাজিয়ে ওপরে ওঠার সময় হুটহাট বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা—এই তিনটি প্রধান জায়গায় বাংলাদেশের ফুটবলারদের এখনো ব্যাপক উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
দলের সার্বিক পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করলেও মাঠে একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্ট করার পুরোনো রোগ নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছে কোচ টমাস ডুলির কণ্ঠে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান দুর্বলতা হলো গোল করার জন্য আমাদের এখনো প্রচুর সুযোগের প্রয়োজন হয়।’
বাংলাদেশি ফুটবলারদের বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং মাঠের কিছু মৌলিক দক্ষতার মারাত্মক ঘাটতির দিকটিও নির্দ্বিধায় তুলে ধরেন ডুলি। নিজের আগামী দিনের পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমাদের ফার্স্ট টাচ ঠিকঠাক হয় না। তাই আমি দলের একদম বেসিক বা মৌলিক বিষয়গুলো, যেমন পাসিং ও রিসিভিং নিখুঁত করার জন্য অনুশীলন শুরু করাব।’
সান মারিনোর মতো শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘদেহের ফুটবলারদের বিপক্ষে মাঝমাঠ কিংবা নিজেদের রক্ষণভাগে বলের পজিশন হারানো যে কতটা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারত, সেই বিষয়েও ফুটবলারদের সতর্ক করে দেন তিনি। রক্ষণভাগ থেকে বল পাসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আক্রমণে ওঠার সময় কিছু আনাড়ি ভুলের কড়া সমালোচনা করে ডুলি বলেন, ‘রক্ষণভাগ থেকে বল নিয়ে ওপরে ওঠার সময় আমরা কিছু সহজ বল হারিয়েছি, যা মাঠে একেবারেই কাম্য নয়। আমি শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের এ বিষয়ে সতর্ক করেছি।’
তবে মাঠের এই ভুলত্রুটিগুলোর পেছনে দলে যুক্ত হওয়া বেশ কয়েকজন নতুন ফুটবলারের সাথে নিয়মিত অনুশীলনের ঘাটতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ দলের এই মাস্টারমাইন্ড। তাঁর মতে, এগুলো দলের কোনো দীর্ঘমেয়াদি বা চিরস্থায়ী সমস্যা নয় এবং একটু মনোযোগ দিলেই খুব সহজে এগুলো সংশোধন করা সম্ভব।
আগামী দিনে বাংলাদেশ দলের ফুটবলীয় দর্শন, খেলার ধরন ও খেলোয়াড়দের মানসিকতায় বড় ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা জানিয়ে ডুলি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমাদের চিন্তাভাবনা বদলাতে হবে, তারপর আমাদের অনুশীলনের ধরন বদলাতে হবে এবং সবশেষে আমাদের খেলার শৈলী পরিবর্তন করতে হবে। আর এটা পুরোপুরি সম্ভব।’