
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ যেন এক বিভীষিকার নাম টিম মেক্সিকোর জন্য। উদ্বোধনী ম্যাচে খেলতে নামলেই যেন অবধারিতভাবে হারই লেখা থাকত তাদের নিয়তিতে। টানা সাতটি উদ্বোধনী ম্যাচে জয়হীন থাকার পর অবশেষে সেই পরিসংখ্যান এবার বদলে গেছে নিজেদের মাটিতে। মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করেছে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। এর ফলও আসে দ্রুত। নবম মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেস গোল করে টুর্নামেন্টের প্রথম গোলদাতা হিসেবে নাম লেখান। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।
বিরতির পরও খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল মেক্সিকোর হাতেই। ৬৭ মিনিটে রাউল হিমেনেজ গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।
পরিসংখ্যানেও ছিল মেক্সিকোর আধিপত্য। বলের দখলে তারা এগিয়ে ছিল ৬০ শতাংশ সময়, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার দখল ছিল ৪০ শতাংশ। আক্রমণ গঠন ও পরিষ্কার সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।
তবে ম্যাচটি আলোচনায় এসেছে একাধিক লাল কার্ডের কারণেও। বিশ্বকাপের প্রথম লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। ৫০ মিনিটে পেনাল্টি এলাকার কাছে ফাউল করে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ফলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
৮৪ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানেও লাল কার্ড দেখে দলকে আরও বিপদে ফেলেন। পরে নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে মেক্সিকোর সেজার মন্তেসও লাল কার্ড দেখেন। ফলে ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ড প্রদর্শিত হয়, যা বিশ্বকাপের কোনো উদ্বোধনী ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জয়ের মাধ্যমে বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল মেক্সিকো। আর পরাজয় ও দুই লাল কার্ডের হতাশা নিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ শেষ করতে হলো দক্ষিণ আফ্রিকাকে।