
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকার প্রতিনিধি মিসর। ম্যাচটি শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বেরও বড় পরীক্ষা। হারের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যাবে একটি দলের বিশ্বকাপ অভিযান।
ইতিহাস অবশ্য আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দলের আগের দুই দেখাতেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। প্রথম সাক্ষাৎ ১৯২৮ সালের অলিম্পিকের সেমিফাইনালে, যেখানে মিসরকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ২০০৮ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচেও ২-০ ব্যবধানে জয় পায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ।
বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষেও দারুণ পরিসংখ্যান রয়েছে আর্জেন্টিনার। আফ্রিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। এই আট ম্যাচের শেষ ছয়টিতেই প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে মিসরের একমাত্র ম্যাচটি ছিল ২০১৮ সালে, যেখানে উরুগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।
পরিসংখ্যান অবশ্য মিসরের আত্মবিশ্বাসে ভাটা ফেলছে না। মোহাম্মদ সালাহকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে আফ্রিকার দলটি। অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠার পর দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। দলটির টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানও বলেছেন, ‘তাদের মেসি আছে, কিন্তু আমাদের সালাহ আছে।’
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, এবারের বিশ্বকাপে কোনো দলকেই স্পষ্ট ফেবারিট বলা যায় না। তার ভাষায়, ‘এই বিশ্বকাপ সবার জন্যই কঠিন। আগে যেমন পরিষ্কার ফেবারিট থাকত, এবার তেমনটি নেই। অনেক খেলোয়াড়কে অল্প সময়ের মধ্যে অনেক ম্যাচ খেলতে হয়েছে। সেই ক্লান্তির প্রভাব মাঠের খেলায়ও পড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ শুরুর আগে যেসব দলকে শিরোপার দাবিদার ধরা হয়েছিল, তাদের অনেকেই এখনো প্রত্যাশিত মানের ফুটবল খেলতে পারেনি। প্রতিযোগিতার ঘন সূচি এবং খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ এর অন্যতম কারণ বলেও মনে করেন তিনি।
আর্জেন্টিনা শেষ ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে এসেছে। অন্যদিকে মিসরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর এই পর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে দুই দলই আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে।
আটলান্টার এই লড়াইয়ে একদিকে থাকবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে থাকা মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে বিভোর সালাহর মিসর। ম্যাচ শেষেই নির্ধারণ হবে—বিশ্বকাপের মঞ্চে কার স্বপ্ন বেঁচে থাকবে, আর কার যাত্রা থেমে যাবে।