
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তবে ফাইনালের উত্তেজনা শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির দ্বৈরথেই সীমাবদ্ধ নয়। ম্যাচটি হয়ে উঠেছে এক সময়ের শিক্ষক ও তার সফল শিষ্যেরও লড়াই। কারণ, আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি কোচিং শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন করেছিলেন বর্তমান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনেই।
রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তের প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন স্ক্যালোনি। তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার অসাধারণ কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কোচিং কোর্সে যেসব শিক্ষকের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছি, তিনি তাদের একজন। আমি সব সময় অসংখ্য প্রশ্ন করতাম, আর তিনি কখনো বিরক্ত হতেন না। আমার কাছে তিনি সব সময়ই একজন অসাধারণ মানুষ।’
২০১৭ সালে হোর্হে সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে আর্জেন্টিনা দলে দায়িত্ব পালনকালে উয়েফা প্রো লাইসেন্স অর্জনের কোর্সে অংশ নেন স্ক্যালোনি। সেই কোর্সে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রশিক্ষক হিসেবে ট্যাকটিকস ও গেম সিস্টেম বিষয়ে পাঠদান করতেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
একই ব্যাচে ফার্নান্দো রেডন্দো, হাভিয়ের সাভিওলা, লিও ফ্রাঙ্কো ও হুলিও সেজারের মতো সাবেক তারকারাও ছিলেন। তবে কোচ হিসেবে পরবর্তীতে সবচেয়ে বড় সাফল্যের দেখা পান স্ক্যালোনিই।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের কোচিং স্কুলের পরিচালক গিনেস মেলেন্দেজের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ক্যালোনি ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত সামনের সারিতে বসে ক্লাস করতেন এবং শেখার আগ্রহ ছিল প্রবল।
দুই কোচের ক্যারিয়ারেও রয়েছে বেশ কিছু মিল। দে লা ফুয়েন্তে দীর্ঘ ১৩ বছর স্পেনের বয়সভিত্তিক দলগুলোর দায়িত্ব পালন করে অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২১ ও অলিম্পিক দলে সাফল্য অর্জনের পর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন।
অন্যদিকে স্ক্যালোনি শুরু করেছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে। অনূর্ধ্ব-২০ দলের কয়েকটি ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়েই জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়ে পরে জিতেছেন কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপ।
কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর কোচদের এক ফোরামে দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল বলেও জানান স্ক্যালোনি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আমাদের খুব সুন্দর একটি আলোচনা হয়েছিল। আমি কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলাম, যা তাকে হয়তো কিছুটা সাহায্য করেছে। অহংকার করে বলছি না, তবে তিনি সেগুলো নিজের দলে দারুণভাবে প্রয়োগ করেছেন।’
শিষ্যের প্রশংসার জবাবে দে লা ফুয়েন্তেও একাধিকবার স্ক্যালোনির প্রশংসা করেছেন। স্পেন কোচের ভাষায়, ‘লিওনেল ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমী, আগ্রহী এবং শেখার প্রবল ইচ্ছাসম্পন্ন একজন ছাত্র। নিজেকে উন্নত করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তার মধ্যে সব সময় ছিল। তার শিক্ষক হতে পেরে আমি গর্বিত।’
ফাইনালের আগে স্ক্যালোনি জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে তিনি সাবেক শিক্ষককে ফোন করবেন না। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামলেও দে লা ফুয়েন্তের প্রতি তার শ্রদ্ধা অটুট থাকবে।