
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হওয়া ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব ফুটবল দলের সদস্য ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসানের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) আল জাজিরার প্রতিবেদনে ফাদির পরিবার, স্থানীয় কর্মকর্তাদের এবং ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ বছর বয়সী ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান গত ১১ জুলাই পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির গ্রামে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) তার মৃত্যু হয়।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, হামলার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ফাদির উরুতে গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসকরা তার একটি পা কেটে ফেললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ফাদি স্থানীয় আল-মুঘাইয়ির ক্লাবের হয়ে খেলতেন এবং ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। শনিবার রামাল্লার প্যালেস্টাইন মেডিকেল কমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহ নিজ গ্রামে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তাকে দাফন করা হয়।
ফাদির মৃত্যুর পর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ও সেনাদের সহিংসতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ হলেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতিকে বৈষম্যমূলক বা ‘অ্যাপার্টহাইড’ ব্যবস্থা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে পিএফএ জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৩ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫৬৮ জন ফুটবল অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ফাদির বাবা হামদাল্লাহ আল-নাসান বলেন, মেয়েদের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যাওয়ার পরই তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়।
মা হানান আল-নাসান বলেন, ‘সে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। ফুটবল ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা। সবাই তাকে ভালোবাসত।’