
বিশ্বকাপের ফাইনাল এখনও বাকি। তবু ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন লিওনেল মেসি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে তাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট দৌড়েও এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দখলে। টুর্নামেন্টজুড়ে সেই রেকর্ড ভাঙা-গড়ার লড়াইয়ে ছিলেন মেসি ও এমবাপে। ফাইনালে মেসির খেলা এখনও বাকি থাকলেও, আপাতত রেকর্ড বইয়ের শীর্ষে উঠে গেছেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।
শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে চতুর্থ হয় ফ্রান্স। ম্যাচে বুকায়ো সাকা হ্যাটট্রিক করেন। পরাজিত দলের হয়ে ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের দুটি অ্যাসিস্ট থেকে জোড়া গোল করেন এমবাপে।
এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে মাত্র ২২ ম্যাচে নিজের গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে যান এমবাপে। ফলে ৩৩ ম্যাচে ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন তিনি।
একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাও ১০-এ উন্নীত করেছেন এমবাপে। অন্যদিকে ফাইনালের আগে মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। অ্যাসিস্টের হিসাবে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এগিয়ে থাকলেও গোলের দৌড়ে এখন ফরাসি তারকাই শীর্ষে।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এমবাপের অ্যাসিস্টের সংখ্যা আর না বাড়লেও জোড়া গোল তাকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে তুলে দিয়েছে। বিশ্বকাপের এক আসরে অন্তত ১০ গোল করা ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ফুটবলারও হয়েছেন তিনি।
এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের বিশ্বরেকর্ড এখনো ফরাসি কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইনের দখলে। তিনি ১৯৫৮ বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েছিলেন। এছাড়া ১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির সান্দর কোকসিস ১১ গোল এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার ১০ গোল করেছিলেন। এবার সেই অভিজাত তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করলেন এমবাপে।
এখন নজর বিশ্বকাপের ফাইনালে। সেখানে গোল করে মেসি কি আবারও রেকর্ডের মুকুট ফিরিয়ে নিতে পারবেন, নাকি এমবাপেই ধরে রাখবেন শীর্ষস্থান—সেই উত্তর মিলবে শিরোপা নির্ধারণী লড়াই শেষে।