
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। তবে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট উপহার দেওয়ার আশা দেখছেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। তার বিশ্বাস, ব্যাটাররা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো লড়াই গড়ে তোলা সম্ভব।
টেস্ট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের সেই সফরে দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় টাইগারদের। ওই দলে খেলেছিলেন বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলও। দুই টেস্টের চার ইনিংসে (০, ০, ৭ ও ২৩) তার মোট রান ছিল মাত্র ৩০। প্রায় ২৩ বছর আগের সেই সফরের কঠিন বাস্তবতা খুব কাছ থেকেই দেখেছেন তিনি।
এবারের সফরও সহজ হবে না। কারণ, টেস্টে ধারাবাহিক উন্নতির পর সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে এমন পরাজয় দলের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিয়েছে। তাই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ আরও বড়।
তবে ব্যাটিং নিয়ে ইতিবাচকই থাকছেন আশরাফুল। অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি আমার দেশকে বলেন, ‘জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যাটাররা ভালো করেনি, এটা সত্য। তবে এর আগে তো ব্যাটাররা ভালো করেছে। আমরা ভালো খেলেছি। আশা করি, অস্ট্রেলিয়ায় তারা ভালো করবে বলে। যদি ব্যাটিং ভালো হয়, তাহলে আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমিয়ে তুলতে পারব।’
গত শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। আগামী ১৩ আগস্ট শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। আশরাফুলের মতে, প্রথম ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে থাকায় প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি থাকবে না।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৩ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার ফলে ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারব। একটি প্রস্তুতি ম্যাচসহ অন্তত সাত-আটটি অনুশীলন সেশন করার সুযোগ পাব। এতে দলের প্রতিটি সদস্য অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মোটামুটি ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবে।’
শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিং বিভাগকেও নিজেদের সেরাটা দিতে হবে বলে মনে করেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ। জিম্বাবুয়ে সফরে বোলারদের পারফরম্যান্সও প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল না। তার ওপর ইনজুরির কারণে এবার বাংলাদেশের পেস আক্রমণও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আশরাফুল বলেন, ‘শুধু ব্যাটিং নয়, বোলারদেরও ভালো করতে হবে। যদি দল হিসেবে আমরা খেলতে পারি, তাহলে অস্ট্রেলিয়ায় ভালো কিছুই হবে।’
অভিজ্ঞতার জায়গায় বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ বলেও মনে করেন তিনি। আশরাফুলের ভাষায়, ‘দেখেন, আমাদের দলে অন্তত ৮-১০ জন খেলোয়াড় রয়েছে, যাদের অন্তত ৬০-৭০টি করে টেস্ট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। সিরিজ কঠিন হবে, এটা জানা। তবে আমাদের এই অভিজ্ঞতা কাজে দেবে। সব মিলে আশা করি, আমরা ভালো কিছুই করব।’
দুই ম্যাচের এই সিরিজের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ডারউইনে, যা শুরু হবে ১৩ আগস্ট। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে গড়াবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।