
বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এবার বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার নেতৃত্বে আস্থার সংকটের কথা জানিয়ে পুনর্নির্বাচনে দেওয়া সমর্থন প্রত্যাহার করেছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশে জুয়ারেস সংস্থাটির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইনফান্তিনোকে সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান। ১৯৯৪ সাল থেকে ইসরায়েল উয়েফার সদস্য এবং জুয়ারেস ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সদস্য।
ইনফান্তিনোর জন্য এই সিদ্ধান্তকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ফিফা সভাপতি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে আসছেন। গত এপ্রিলে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি বাসিম শেখ সুলেমানের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান।
তাতেও ইনফান্তিনোর উদ্যোগ থেমে থাকেনি। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে মুখোমুখি করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এ বিষয়ে গত জুনে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ‘দ্য গার্ডিয়ান’।
ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ফিফা ও উয়েফার বৈশ্বিক ফুটবল পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ‘অভূতপূর্ব আস্থার সংকট’ তৈরি করেছে।
চিঠিতে জুয়ারেস আরও দাবি করেন, দুই সংস্থার মধ্যকার মতপার্থক্য গভীর, মৌলিক ও নীতিগত। এর ফলে বিশ্ব ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
আইএফএর বোর্ড সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সমর্থন প্রত্যাহারের কথা জানান জুয়ারেস। তিনি বলেন, ‘আমাদের আগের সমর্থনের চিঠি প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আন্তরিকভাবে আশা করি, সব পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ সংলাপ শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের জন্য একটি অভিন্ন, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দিকনির্দেশনা ফিরিয়ে আনবে।’
এর আগে উয়েফার সদস্য ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডও ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
তবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফিফাকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা ভাবাও হবে মারাত্মক ভুল।’
অন্যদিকে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, লাতিন আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সিএএফ এবং আরও কয়েকটি দেশ পৃথকভাবে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।