
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগে থেকেই অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠছিল। এবার সেই সমস্যায় পড়েছেন খোদ স্বাগতিক জাপানের অ্যাথলেটরাও।
বিশেষ করে পুরুষ ও নারী ক্রীড়াবিদদের একই কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করায় নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবারের এশিয়ান গেমসের।
একই কক্ষে পুরুষ-নারী ক্রীড়াবিদ
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের পুরুষ ও নারী ক্রীড়াবিদদের একই কক্ষে বরাদ্দ দেওয়ার কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে তাদের জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
আইচি ও নাগোয়ায় গেমসে অংশ নিতে আসা বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের অনেকেই এরই মধ্যে আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা এবং আবাসনের মান নিয়ে অভিযোগ করেছেন। এবার সেই বিড়ম্বনা থেকে বাদ পড়েননি স্বাগতিক জাপানের ক্রীড়াবিদরাও।
জাপানের ডেপুটি শেফ দ্য মিশন হিসাশি মিজুতোরি জানিয়েছেন, কক্ষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে শুধু সংখ্যার হিসাব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে বাস্তবে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে কোচ, দলের কর্মকর্তা ও ক্রীড়াবিদদের একই কক্ষে রাখা হয়েছে। আবার এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে, যেখানে কেবল সংখ্যার হিসাব মিলিয়ে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেমন– পাঁচজন পুরুষ ও পাঁচজন নারীর জন্য পাঁচটি টুইন রুম বরাদ্দ করা হয়েছে। কাগজে-কলমে সংখ্যাটা ঠিক থাকলেও বাস্তবে এতে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।’
কোচ ও ক্রীড়াবিদদেরও একই কক্ষে রাখা হয়েছে
মিজুতোরি জানান, সমস্যাগুলো শুধু পুরুষ ও নারী ক্রীড়াবিদদের একই কক্ষে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোচের কক্ষে ক্রীড়াবিদকে রাখা এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য বেশি জায়গা প্রয়োজন এমন প্রশিক্ষকদের একই কক্ষে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘পুরুষ ও নারী অ্যাথলেটকে একই কক্ষে রাখা, কোচের কক্ষে ক্রীড়াবিদকে রাখা কিংবা অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন এমন প্রশিক্ষকদের একই কক্ষে রাখার মতো ঘটনা অন্যতম। আমরা যতটা সম্ভব এখন সমন্বয় ও আলোচনা করে সেসবে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। যেসব ক্ষেত্রে সেটি করা খুব কঠিন হবে, সেখানে বিকল্প হিসেবে টিম জাপান আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা ব্যাকআপ আবাসন ব্যবহারের কথা ভাবছি।’
অর্থাৎ, যেসব ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে কক্ষ বরাদ্দে পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে না, সেসব ক্ষেত্রে বিকল্প আবাসন ব্যবহারের প্রস্তুতি রেখেছে টিম জাপান।
নিবন্ধন ত্রুটিতে বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
এশিয়ান গেমসের আবাসনসংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার আরও কিছু বিষয় নিয়েও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর খেলোয়াড়দের অভিযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম হলো কম্পিউটারে নাম নিবন্ধনের ত্রুটি। এই সমস্যার কারণে বিমানবন্দর থেকে ক্রীড়াবিদদের আবাসনস্থলে নেওয়ার পরিবহনব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়ে।
ফলে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও আবাসনের ব্যবস্থা না হওয়ায় কিছু ক্রীড়াবিদকে বিমানবন্দরের মেঝেতে ঘুমাতে হয়েছে।
প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা আসবেন জাপানে
এবারের এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে জাপানে প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা আসবেন।
তবে এবারের আয়োজনের ক্ষেত্রে আয়োজকরা প্রচলিত একটি একক অ্যাথলেট ভিলেজের পরিবর্তে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বেশ কয়েক ধরনের ভিন্নধর্মী আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন।
এর অংশ হিসেবে ইতালির প্রমোদতরি কোস্টা সেরেনা-তে প্রায় ৪ হাজার অংশগ্রহণকারীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ক্রুজশিপ ভিলেজেও প্রবেশে সময় লাগছে
জাপানের ডেপুটি শেফ দ্য মিশন হিসাশি মিজুতোরি জানিয়েছেন, গত বুধবার ক্রুজশিপ ভিলেজ চালু হওয়ার পর থেকেই সেখানে ক্রীড়াবিদদের আগমন এবং প্রবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগছে।
মিজুতোরি বলেন, ‘গত বুধবার ক্রুজশিপ ভিলেজ চালু হওয়ার পর থেকে ক্রীড়াবিদরা সেখানে আসছেন এবং প্রবেশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য সময় লেগেছে। পরিচয়পত্র সক্রিয় করার সমস্যার কারণে কিছু ক্রীড়াবিদকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি।’
এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই আবাসন, নিবন্ধন এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসব সমস্যার মুখে পড়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে স্বাগতিক জাপানের ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রেও কক্ষ বরাদ্দের জটিলতা তৈরি হওয়ায় আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।