
মাঠজুড়ে তখন বিদায়ের আবেগ। হাজারো দর্শকের সামনে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো কথা বলছেন লিওনেল মেসি। বক্তব্য শেষ হতেই গ্যালারি থেকে মাঠে ছুটে এলেন তার বড় ছেলে থিয়াগো। বাবাকে জড়িয়ে ধরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি।
আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে মেসির বিদায়ী মুহূর্ত ঘিরে তৈরি হয়েছিল আবেগঘন পরিবেশ। ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে বক্তব্য শেষ করার পর মাঠে থাকা মেসির কাছে ছুটে যান থিয়াগো। বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে থাকেন তিনি। মেসিও ছেলেকে দুই হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই মাঠেই অসংখ্যবার গোল উদযাপন করেছেন মেসি। বিশ্বকাপসহ একাধিক শিরোপা জয়ের আনন্দে কেঁদেছেন। কিন্তু বিদায়ের রাতে সেই মাঠেই ছেলের কান্না যেন মুহূর্তটিকে অন্য মাত্রা দেয়।
কিছুক্ষণ পর স্বামী-ছেলের পাশে এসে দাঁড়ান মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। দুজনকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন তিনি। পরে পরিবারের অন্য দুই সন্তান মাতেও ও সিরোও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। মুহূর্তেই মাঠের দৃশ্যটি পরিণত হয় মেসি পরিবারের এক আবেগঘন পুনর্মিলনে।
এর আগে বিদায়ী বক্তব্যে মেসি জানান, আর্জেন্টিনার হয়ে আর মাঠে না নামার বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত কঠিন। জাতীয় দলের জার্সি, সতীর্থ এবং সমর্থকদের তিনি কতটা মিস করবেন, সেটিও তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিদায়ী বক্তব্যে নিজের বাবা হোর্হে মেসিকেও স্মরণ করেন তিনি। গত ৮ আগস্ট প্রয়াত বাবার কথা বলতে গিয়ে মেসি তার দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জয়ের মুহূর্তগুলোও ফিরে আসে তার কথায়।
বক্তব্যের শেষ দিকে নিজেও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। মাঠ ছাড়তে মন না চাওয়ার কথা জানিয়ে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। আর সেই আবেগের সবচেয়ে স্পর্শকাতর মুহূর্ত হয়ে রইল ছেলেকে জড়িয়ে ধরে থাকা মেসির ছবিটি।