
‘একটি দুর্ঘটনায় আমার পা ভেঙে যায়। অপারেশন হইছে; কিন্তু আমি এখন পায়ের ব্যথায় মরে যাচ্ছি। এই অবস্থায় আমি কইছি, আমারে মাইরা লাও, তারা আমারে মারে না। আমি তারারে (পরিবারের লোকজন) কইছি, আমি আর বাঁচতে চাই না, মরতে চাই। আমার পাও কাইট্টা লাও, তারা কাটে না। আমি সুইসাইড করতে গেছি, আমারে দেয় না। এর লাইগা আমি তারারে মারছি।’
মা ও ভাতিজিকে হত্যার পর ভাবিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় পরিবারের লোকজনের হাতে আটক মো. ইমন (২৪) সাংবাদিক ও পুলিশের কাছে এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে। ইমন পেশায় শ্রমিক। তিনি ওই বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে।
ঘটনার পর ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত মা ও দুই বছরের ভাতিজি
হামলায় নিহত হয়েছেন ইমনের মা ফিরোজা বেগম (৬২) এবং তাঁর দুই বছর বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহান (২)।
এ ছাড়া ইমনের ভাবি রাবেয়া আক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মা ও শিশুকে হত্যার পাশাপাশি পরিবারের আরেক সদস্য গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
পা ভাঙার পর থেকেই মানসিক সমস্যার লক্ষণ
ইমনের বড় ভাই মো. সুজন (৩৫) সাংবাদিকদের জানান, ২০১৮ সাল থেকে পা ভেঙে যাওয়ার কারণে ইমন বাড়িতেই ছিলেন। তাঁর পায়ে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়।
সুজনের ভাষ্য, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই ইমনের মধ্যে মানসিক সমস্যার বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে থাকে।
সোমবার সকাল ৭টার দিকে সুজন বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে তিনি খবর পান, ইমন তাঁর মা ও মেয়েকে হত্যা করেছেন এবং স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছেন।
খবর পাওয়ার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে ইমনকে আটক করেন। পরে তাঁকে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখা হয়।
হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়
সোমবার সন্ধ্যায় দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। ঘটনাটির কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি।