
শুনতে রূপকথার মতো মনে হলেও ফুটবলের মাঠে অসম্ভব বলে যে কিছু নেই, তা আবারও মনে করিয়ে দিলেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেস। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে রাউন্ড অব ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে কেবল বড় স্বপ্নই দেখছেন না, বরং ম্যাচটি জিতে ইতিহাস গড়ার ব্যাপারেও প্রবল আত্মবিশ্বাসী আফ্রিকার এই ছোট্ট দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান।
চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো মূল পর্বে খেলার টিকিট পায় কেপ ভার্দে। আর নিজেদের অভিষেক আসরেই চমকপ্রদ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে তারা। গ্রুপ পর্বের লড়াকু যাত্রায় শক্তিশালী স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করার পর সৌদি আরবের সাথেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করে শেষ ৩২-এর মঞ্চ নিশ্চিত করেছে আফ্রিকান দলটি।
অন্যদিকে, আসরে এখন পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া এবং জর্ডানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে নকআউটে পা রেখেছে লিওনেল মেসির দল। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের করা মোট আটটি গোলের মধ্যে ছয়টিই এসেছে জাদুকর মেসির পা থেকে। ফলে শক্তির বিচারে ও কাগজে-কলমে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরাই।
তবে মাঠের নাম ও অতীতের পরিসংখ্যানকে একদমই পাত্তা দিচ্ছেন না কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হোসে মারিয়া নেভেস তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন:
"আমার বিশ্বাস, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারে। আমরা জিততেই মাঠে নামব। যখন কোনো দলের প্রতি প্রত্যাশা কম থাকে, কিন্তু জয়ের ক্ষুধা প্রবল থাকে, তখন অনেক কিছুই সম্ভব।"
নিজেদের আন্ডারডগ মনে করলেও অঘটন ঘটানোর ব্যাপারে আশাবাদী নেভেস আরও যোগ করেন:
"কেপ ভার্দের মতো ছোট একটি দেশের সবসময় মানুষকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমাদের জয়ের শতভাগ সম্ভাবনা আছে।"
প্রেসিডেন্টের মতে, বিশ্বমঞ্চের এই আসরে আসার মূল উদ্দেশ্যই ছিল বিশ্বসেরাদের চোখে চোখ রেখে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করা। তাঁর ভাষায়:
"আমরা এই বিশ্বকাপে এসেছি নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই লিখতে। সেই ভাগ্যই আমাদের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দাঁড় করিয়েছে। তাই আর্জেন্টিনা ও মেসির বিপক্ষেও আমরা একই দৃঢ়তা, একই মানসিকতা এবং জয়ের ইচ্ছা নিয়েই মাঠে নামব। আমাদের লক্ষ্য একটাই—পরের রাউন্ডে ওঠা।"
এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর মাঠের লড়াইয়ের দিকে—মেসি বাহিনীর গোলবন্যার সামনে আফ্রিকার এই নবাগত দলটি কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারে, তা দেখার অপেক্ষাই এখন ফুটবল বিশ্বের।