
ঢাকার মিরপুরে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে জাহের আলভীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা।
তিনি জানান, এদিন আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। ফলে রিমান্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি থাকলে তাদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এর আগে রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আবদুল মালেক আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, গত ২৮ জুন স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জাহের আলভীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে ২৪ জুন আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে, মামলার আরেক আসামি এবং জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি গত ৪ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জামিন দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ সকালে মিরপুরের একটি বাসা থেকে অভিনেতার স্ত্রী ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।