
চিত্রশিল্পী, নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নাট্য ও সংস্কৃতিজগতের বিশিষ্টজনরা ফুল দিয়ে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গণ থেকে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। এরপর থেকেই তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ।
শ্রদ্ধা জানান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, ত্রপা মজুমদার, শিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলা, কাজী তামান্না ও গোলাম রাব্বানী।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট, কর্মজীবী নারী, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রাচ্যনাট, বটতলা, দূরন্ত স্টেশন ও বঙ্গরঙ্গ নাট্যদলও এ সময় শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এর আগে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১৪ জুন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হলেও অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন এই গুণী শিল্পী।