
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ দুই ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ক্রমেই কমে আসছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পৌঁছানোয় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, নিহতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো প্রায় ১৪০ জন অভিবাসীও রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশু ছিল। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই সময় তারা একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন, যা ভূমিকম্পে ধসে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানের পঞ্চম দিনে সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২০০টি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে। এছাড়া কয়েকশ স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত আহতের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে।
রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকা এল খুনকিতো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি হলেও সেখানে পর্যাপ্ত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বাসিন্দাদের দাবি, ওই এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও খুবই সীমিত।
এ অবস্থায় আশপাশের কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারাই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাবার, পানি ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভেনেজুয়েলাকে সহায়তা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে এলেও অধিকাংশ সহায়তা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়েইরা রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে।
তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩০টি দেশ থেকে সহায়তা এসেছে। এসব দেশের পাঠানো এক হাজার মেট্রিক টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী, ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি উদ্ধার ও সহায়তাকর্মী এবং ১১৮টি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী কুকুর ইতোমধ্যে ভেনেজুয়ায় পৌঁছেছে।
তবে এখনও কত মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিখোঁজ স্বজনদের তথ্য জমা দেওয়ার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার।
সোমবার ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের ভাই এবং জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেস জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৪ জন এবং গৃহহীন হয়েছেন ১৫ হাজার ৮৬৬ জন।
এদিকে ভূমিকম্পের প্রভাবে সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেশের মধ্যাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার, একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স এবং আরও কয়েকটি শিল্প কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। কোম্পানিটির আশা, দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের তেল শোধনাগারগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে।
শিল্প সূত্রগুলোর দাবি, উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম এখনো মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।