
শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইঘর এলাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি একটি বিদেশি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন— জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে ফিরতে পারে। এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সন্তানদের পুনর্বাসনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে দেশছাড়া করতে হাজারো ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছে। সেই আত্মত্যাগের পর আবার তার সন্তানদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।”
এনসিপি মুখপাত্র আরও বলেন, “যদি আমরা ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারি, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের বিজয় অসম্ভব কিছু নয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ক্ষমতার অপেক্ষায় রয়েছে এবং ক্ষমতায় গেলে তারা আবার চাঁদাবাজি ও দখলদারিতে জড়িয়ে পড়বে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে।
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, গত ১৭ বছর ধরে গুম, খুন, দুর্নীতি ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ১১ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ থেকে দুটি ‘ভূত’ তাড়াতে হবে— একটি হলো সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি, আরেকটি দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচার।”
মামুনুল হক আরও দাবি করেন, বিগত শাসনামলে দিনের ভোট রাতে করার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। তাই জনগণ এবার ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনকে সমর্থন দিয়েছে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেনকে জোটের একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোট প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান নেতারা।