
রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১২ জন নিহত ও আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অভিযোগ, হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে রাশিয়া।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন, রাশিয়া তার মিত্র উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনা সহায়তা পাচ্ছে। এর এক দিন পরই ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের হামলা চালানো হলো।
জেলেনস্কি জানান, উত্তর কোরিয়া এরই মধ্যে রাশিয়াকে হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া হামলা আরও বাড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি, উত্তর কোরিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি—সবকিছুই ইঙ্গিত করছে যে মস্কো শান্তির পরিবর্তে সংঘাত আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাতভর হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জাপোরিঝঝিয়া শহরে। জেলেনস্কির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর শহরের বেশ কয়েকটি ভবন ও যানবাহনে আগুন ধরে যায়।
জেলেনস্কির দাবি, জাপোরিঝঝিয়ায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র ও নির্দেশিত বোমাও ব্যবহার করা হয়েছে। তার অভিযোগ, বেসামরিক অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করাই ছিল হামলার অন্যতম লক্ষ্য।
জাপোরিঝস্তাল ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত ছয়জনই তাদের কর্মী। তাদের বিবৃতি অনুযায়ী, বিমান হামলার সতর্কতা জারির পর কর্মীরা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে আরও ২১ কর্মী আহত হন।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, রাতের হামলায় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভের একটি সংক্রামক রোগের হাসপাতালেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এ ছাড়া খেরসন ও খারকিভে হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় মিকোলাইভ শহরে রুশ ড্রোন হামলায় ৭৫ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের স্থাপনা এবং পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর আলেক্সান্দর গুসেভ। তার ভাষ্য, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি গুদামে আগুন ধরে যায়।
গুসেভ আরও জানান, ভোরোনেজ শহর ও আশপাশের পাঁচটি জেলায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামগুলোর পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি।
রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, ভোরোনেজে তাদের একটি সরবরাহকেন্দ্র থেকে কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের অনেক ভেতরে ইউক্রেনের হামলা বেড়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও জোরদার করেছে মস্কো।