
ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে এবার সেখানে চালু করা হয়েছে বিনামূল্যের কুলি বা প্রোটার সেবা, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকেরা ট্রলি ব্যবহার করে যাত্রীদের মালামাল বহনে সহায়তা করছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীসেবা উন্নত করতে ট্রলি ও হুইলচেয়ার সার্ভিসের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, মন্ত্রীর উদ্বোধনের আগেই যাত্রীরা এই ফ্রি ট্রলি সেবা ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।
টার্মিনালের প্রবেশপথ থেকেই ভারী মালপত্র বহনকারী যাত্রীদের কাছে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের ট্রলি সেবা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে দেখা যায়। এমন ভিন্ন উদ্যোগ দেখে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার বলেন, নতুন সরকারের সময়ে যাত্রীদের কল্যাণে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ঈদের আগে পাঁচ দিন এবং ঈদের পরের পাঁচ দিন—মোট ১০ দিনের জন্য যাত্রীদের ফ্রি কুলি (প্রোটার) সেবা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আগে যারা এখানে কুলি হিসেবে কাজ করতেন, তাদেরই বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধানে এই কাজে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
স্বেচ্ছাসেবকদের পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন তাদের মজুরির বিষয়টি সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের লেবার হ্যান্ডেলিং ইজারাদার দেখবেন।
এ বিষয়ে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের লেবার হ্যান্ডেলিং ইজারাদার এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের আহ্বায়ক সুমন ভূইয়া বলেন, যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। তিনি বলেন, তাদের মজুরি তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করবেন।
সুমন ভূইয়া আরও বলেন, মন্ত্রীর আগ্রহের কারণেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে স্বেচ্ছাসেবকদের পারিশ্রমিকের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন।