
কৃষক ও পল্লি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন বাড়াতে ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ‘কৃষি ও পল্লি খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামের এ কর্মসূচিতে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ শতাংশ। গত ৮ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া স্কিমটির মেয়াদ তিন বছর।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পল্লি অঞ্চলের বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাসেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে স্কিমটি।
এ স্কিমের আওতায় শস্য ও ফসল উৎপাদন, কৃষি যন্ত্রপাতি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং গ্রামীণ ও পল্লি এলাকার বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে ঋণ নেওয়া যাবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ৪২টি ব্যাংক এ স্কিমে অংশগ্রহণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শস্য ও ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে এ সীমা ২০ লাখ টাকা। আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য পল্লি ঋণে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে।
ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ সুবিধা। শস্য ও ফসল চাষের ক্ষেত্রে এসব কৃষক কোনো জামানত ছাড়াই এককভাবে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। এ ঋণের বিপরীতে শুধু উৎপাদিত শস্য ও ফসল দায়বদ্ধকরণ হিসেবে থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, নতুন এ স্কিমের মাধ্যমে কৃষি ও পল্লি খাতে অর্থায়নের পরিধি বাড়বে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ মানুষের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।