
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড়ে এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারি চালুর পর সড়কে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে ট্রাফিক পুলিশ না থাকলে অনেক চালক নির্বিঘ্নে লাল বাতি অমান্য করে চলে যেতেন, সেখানে এখন সিগন্যাল মেনে গাড়ি থামিয়ে রাখতে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ যানবাহনকে। বিশেষ করে শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও সাকুরা মোড়ে ভোরবেলার এমন দৃশ্য সাধারণ মানুষের মাঝেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও দেখা যায়, ট্রাফিক সিগনালে কোনো পুলিশ বা ট্রাফিক সদস্য উপস্থিত নেই, সড়কও অনেকটা ফাঁকা। তারপরও লাল বাতি জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে গাড়িগুলো নিয়ম মেনে দাঁড়িয়ে আছে। ভিডিওটি ঘিরে অনেকেই এটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের ছবি’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। মূলত ডিএমপির এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরই রাজধানীর কয়েকটি মোড়ে এমন পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরাগুলো সড়কে প্রতিটি যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো চালক সিগন্যাল ভাঙলে, স্টপ লাইন অতিক্রম করলে, উল্টো পথে গেলে বা নির্ধারিত লেন অমান্য করলে ক্যামেরা সঙ্গে সঙ্গে সেটি শনাক্ত করছে। পরে বিআরটিএর ডেটাবেস থেকে গাড়ির মালিকের তথ্য সংগ্রহ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলার নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। এতে ট্রাফিক পুলিশের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া কার্যকর হচ্ছে।
বর্তমানে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি ও জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় এই প্রযুক্তি চালু রয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, চালুর প্রথম চার দিনেই ৩০০টির বেশি ট্রাফিক মামলা রেকর্ড হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ডিজিটাল মামলার কারণে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘আইন অমান্যকারীদের তথ্য সরাসরি সার্ভারে সংরক্ষিত হচ্ছে। এতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।’ তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে রাজধানীর আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সড়কে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক সদস্যরাও বলছেন, আগে অনেক চালক সিগন্যাল অমান্য করে চলে গেলেও এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ডিজিটাল মামলার ভয়ে চালকরা অনেক বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছেন। এতে মাঠপর্যায়ে পুলিশের কাজের চাপও কিছুটা কমেছে।
তবে অনেক চালক ও নগরবাসী মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ পুরোপুরি সফল করতে হলে সড়কের বাস্তব সমস্যাগুলোও সমাধান করতে হবে। ভাঙাচোরা রাস্তা, অকার্যকর সিগন্যাল ও বিশৃঙ্খল যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে না আনলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে বলেও মত তাদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় মানুষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো গেলে শুধু শৃঙ্খলাই নয়, অনিয়ম ও দুর্নীতিও কমানো সম্ভব। রাজধানীর কয়েকটি মোড়ে সাম্প্রতিক পরিবর্তন সেই সম্ভাবনারই নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।