
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক নতুন বিতর্কের মধ্য দিয়ে সূচনা হলো। বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তার পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে গঠিত তামিম ইকবালের এডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসির হস্তক্ষেপ চেয়ে একটি জরুরি বিবৃতি দিয়েছেন এবং নিজেকে এখনও বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করেছেন।
গত মাসে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠন করেছিল পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি, যা বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে। এই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়।
তবে বুলবুল সেই রিপোর্টকে ‘ত্রুটিপূর্ণ, মনগড়া ও আইনি ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের সময় সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে এবং সব আপত্তি সংবিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বুলবুলের মতে, কিছু রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী সাবেক খেলোয়াড় বোর্ডকে অস্থিতিশীল করার জন্য নির্বাচন ফিক্সিংয়ের গল্প সাজাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, বিসিবির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে এনএসসির হস্তক্ষেপ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইনত অনুমোদিত নয় এবং এটি আইসিসির গঠনতন্ত্রের সরাসরি লঙ্ঘন।
তামিমের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটিকে তিনি ‘সাংবিধানিক ক্যু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং সরকারের এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
বুলবুল সতর্ক করেছেন, এ ধরনের অস্থিতিশীলতা অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে শুরু করে জাতীয় দলের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি করবে। দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও শিল্প উৎপাদন হ্রাসের এই সময় ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ তরুণ প্রজন্মের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
তিনি বিবৃতির শেষে জানান, উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত তিনিই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।