
গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ আট কর্মকর্তা সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম পরিচালনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে প্রকল্প পরিচালকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সরকারি সফরের অফিসিয়াল শিরোনাম ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’। তিন দফা তারিখ পরিবর্তনের পর তাদের যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি মাসের ১৫ তারিখ।
এদিকে, যে প্রকল্পের খরচের কারণে এই কর্মকর্তারা বিদেশ যাচ্ছেন, তার বাস্তব অগ্রগতি তেমন সন্তোষজনক নয়। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা থেকে দুদফা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে এইচভিএসি সিস্টেমের প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তারা যাচ্ছেন, প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এছাড়া অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হকও সফরে যাচ্ছেন, যদিও তার চাকরির মেয়াদ কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হতে যাচ্ছে।
নোটযোগ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন এমন কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউই সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণের কাজে নিযুক্ত নন এবং নির্মাণ শেষ হওয়ার পর রক্ষণাবেক্ষণে তাদের সরাসরি ভূমিকা থাকবে না। এই কারণে সফরকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে।
সফরের সব খরচ বহন করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ, যা বিশ্বব্যাপী চিলার ও এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে সেন্ট্রাল এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে দেশের বড় শপিংমলও রয়েছে। তবে ডানহাম-বুশের খরচে সফর হলে সরবরাহকারীর প্রতি এক ধরণের দায়বদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে, যা মানগত প্রশ্ন তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের অনুমোদন প্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন: গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি।
২০১৯ সালে সরকার আটটি বিভাগীয় শহরে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। প্রাথমিক ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালের জুনে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে এক বছর সময় বাড়িয়ে শেষ তারিখ ২০২৩ সালের জুনে নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা এবং সময়সীমা ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো সন্তোষজনক নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পের সব কাজ শেষ হতে ২০২৮ সালের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এই প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হাসপাতালগুলো হল: ঢাকার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নথি অনুসারে, সাতজন কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ‘সেফটি ফ্যাসিলিটিস, অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ম্যানেজমেন্ট অব এইচভিএসি সিস্টেম’ শীর্ষক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে সফরের সময়কাল ছিল ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি। তবে কর্মকর্তারা নির্ধারিত তারিখে যুক্তরাষ্ট্র যাননি। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত নতুন অনুমোদন দেওয়া হয়, তবে তারা তখনও সফর করেননি। সর্বশেষ ৪ মার্চ মন্ত্রণালয় আবারও অনুমোদন দেয়, যাতে কর্মকর্তারা ১৫ থেকে ১৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, “নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করা হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা এইচভিএসি রক্ষণাবেক্ষণে থাকব। তাই প্রশিক্ষণে যাচ্ছি।” প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ থেকে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবসরে গেলেও বেসরকারি খাতে কাজের সময় এই জ্ঞান কাজে লাগানো যাবে।”
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। অবশ্যই খোঁজ নিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।”