
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা ও চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে গণমাধ্যম শিল্পে বিনিয়োগ টিকিয়ে রাখতে উদ্যোক্তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় নীতিগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর একটি মিডিয়া গ্রুপের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করা না গেলে পেশাদার সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অপসাংবাদিকতার সুযোগ বাড়বে। তাই দক্ষ, মেধাবী ও প্রকৃত সাংবাদিকদের এই পেশায় ধরে রাখতে সম্মানজনক বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম শিল্পের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রকে এমন নীতিগত সহায়তা দিতে হবে, যাতে গণমাধ্যম খাতে বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকে।
সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের মেধা, সৃজনশীলতা ও পেশাগত দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।
বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, গণমাধ্যম সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় কমিশন গঠনের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দায়িত্বশীল, স্বাধীন ও টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সরকার ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক নয়; বরং ভুয়া, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার। এ ধরনের তথ্য মোকাবিলায় সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতাদের উত্থানের ফলে বিজ্ঞাপনের বড় অংশ অনলাইনমুখী হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় মূলধারার গণমাধ্যমকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে হবে।
সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনের বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের মান মূল্যায়নে দর্শক ও পাঠকসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হওয়া উচিত। এ জন্য স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিমাপব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভায় ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদার, নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, নিউজ টোয়েন্টিফোরের বার্তাপ্রধান শরিফুল ইসলাম খান, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ কে এম মনজুরুল ইসলাম মনজু এবং কালের কণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খান বক্তব্য দেন।