
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের কাজেরুনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে মানববন্ধন গড়ে তুলেছে সেদেশের সাধারণ মানুষ। সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তরুণ, শিক্ষার্থী, শিল্পী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর থেকেই এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে অবস্থান নেন, যা দেশটির ভেতরে প্রতিরোধের এক প্রতীকী চিত্র হয়ে উঠেছে।
সরকারি আহ্বানকে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে দেখা যায় জনগণকে। কাজেরুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের ঢল নামে। অনেকেই জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অবস্থান নেন, কেউ স্লোগানে জানান দেন অবকাঠামো রক্ষার অঙ্গীকার। অংশগ্রহণকারীদের কাছে এই মানববন্ধন কেবল প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং দেশের সম্পদ রক্ষায় সরাসরি অবস্থান নেওয়ার প্রকাশ।
একটি ভিডিও বার্তায় যুববিষয়ক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আলিরেজা রাহিমি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ শিল্পী ও বিভিন্ন যুব সংগঠন নিজেরাই প্রস্তাব দেয় যে বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে মানবশৃঙ্খল গড়ে তোলা হোক।’ সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই সরকারের সমন্বয়ে দেশজুড়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। প্রায় এক মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অচল থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এর জবাবে ইরান একদিকে কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় জনগণকে মাঠে নামিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মানববন্ধন শুধু প্রতিরোধ নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বার্তা দেওয়ারও একটি কৌশল: রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় ইরানের জনগণ ঐক্যবদ্ধ।
সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে শেষ মুহূর্তে আলোচনার পথ খোলা থাকলে পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত কাজেরুনসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে সাধারণ মানুষের এই উপস্থিতিই ইরানের ভেতরে প্রতিরোধের নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে।