
রাজধানীর বসিলা, আদাবর ও বেড়িবাঁধ এলাকায় আবারও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে চরমভাবে বিপর্যস্ত। সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে শনিবার রাতে, যখন ঈদকে সামনে রেখে আদাবরের একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় চাঁদা দাবি করে হামলার ঘটনা ঘটে।
শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে আদাবরের আবির ফ্যাশন নামের এমব্রয়ডারি কারখানায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা চাঁদা দাবির সময় হামলা চালায়। এতে অন্তত তিনজন আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় এমব্রয়ডারি কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা আদাবর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ কালা রাসেলসহ কয়েকজনকে আটক করেছে।
এর আগে মোহাম্মদপুরের বসিলার তিন রাস্তার মোড় এলাকায় এক পথচারীর ওপর দিনের বেলায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, যা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেন। আহত ব্যক্তি দৌড়ে প্রাণে বাঁচেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিলার বাদল গ্রুপ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
একই দিনে একই এলাকায় চাঁদা না দিলে মার্কেটের সব দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির ঘটনা সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়। এ ঘটনাতেও কিলার বাদল গ্রুপের নাম উঠে আসে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কিলার বাদল, মোল্লা কাউসার, গ্রেজ সোহেল, কালা ফারুক, বাত রাসেলসহ বিভিন্ন গ্যাংয়ের সদস্যরা ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ চালাচ্ছেন। মোহাম্মদপুর, আদাবর, ঢাকা উদ্যান, বসিলা সিটি হাউজিংসহ আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
সবশেষ শনিবার রাতে আদাবর এলাকায় কালা রাসেল গ্রুপের সদস্যরা ঈদ উপলক্ষে চাঁদা দাবি করতে অ্যামব্রয়ডারি ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের কারখানায় প্রবেশ করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়, এতে কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা কালা রাসেলের বাবাকে আটক করেন। পরে নিরাপত্তার দাবিতে তারা আদাবর থানার সামনে সমবেত হন। এতে থানার সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোনাবাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন।
পুলিশ এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে। স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “প্রত্যেক এলাকায় আমাদের মোবাইল পেট্রোল টিম থাকে। যেকোনো ঘটনা ঘটার সাথে সাথে আমাদের জানালে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে পারবো।”
ঈদকে সামনে রেখে পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।