
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রবাসী শফিকুল ইসলাম (৩২) হত্যা মামলার তদন্ত ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকালে উপজেলার লোহাজুরী ঝিড়ারপাড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন মো. নয়ন মিয়া, মো. শফিক মিয়া, আলাম মিয়া, মাওলানা এমদাদুল্লাহ, কামরুনাহারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে শফিকুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো বোনের ভাগিনা বাবুল সরাসরি ছুরিকাঘাত করেন বলে তারা দাবি করেন। পরে নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে বাবুলকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কটিয়াদী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তাদের অভিযোগ, তদন্তের শুরুতেই মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বাধা সৃষ্টি করবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পক্ষে স্থানীয় কয়েকজনকে দিয়ে পাল্টা মানববন্ধন করানো হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি বাবুলকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একাই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। আমি কোনো অনিয়ম করলে স্থানীয় মানুষ আমার পক্ষে অবস্থান নিত না।’
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন শফিকুল ইসলাম নিজ বাড়ি থেকে রসুলপুর বাজারে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন সড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।