
সুস্থ থাকতে শুধু পেট ভরে খেলেই হয় না, খাবারের ধরন, পরিমাণ ও সময়ের দিকেও নজর দিতে হয়। ব্যস্ত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাবার এবং অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের কারণে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখতে হবে প্রয়োজনীয় পুষ্টির সুষম সমন্বয়।
একটি ভালো ডায়েট চার্টে শর্করা, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন, খনিজ ও পর্যাপ্ত পানি থাকা জরুরি। তবে বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর খাবারের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।
ঘুম থেকে ওঠার পর পর্যাপ্ত পানি পান করা যেতে পারে। এরপর সকালের নাস্তায় রাখতে পারেন ডিম, আটার রুটি বা ওটসের মতো খাবার। সঙ্গে একটি মৌসুমি ফল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দুধ বা টক দই রাখা যেতে পারে।
সকালের নাস্তায় অতিরিক্ত তেলেভাজা খাবার, মিষ্টি বা চিনি বেশি দেওয়া পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো।
দুপুরের খাবারে ভাত বা রুটির সঙ্গে মাছ, মাংস কিংবা ডাল রাখতে পারেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সবজি ও সালাদ থাকা জরুরি। ভাতের পরিমাণ নির্ভর করবে ব্যক্তির দৈহিক পরিশ্রম ও মোট ক্যালরি চাহিদার ওপর।
খাবারে অতিরিক্ত লবণ, তেল ও চর্বি ব্যবহার না করাই ভালো। নিয়মিত শাকসবজি খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ পেতে পারে।
বিকেলে ক্ষুধা লাগলে ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে মৌসুমি ফল, বাদাম, টক দই কিংবা হালকা কোনো স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। চা বা কফি পান করলে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা ভালো।
রাতের খাবারে অতিরিক্ত ভাত বা ভারী খাবার না খেয়ে পরিমাণমতো ভাত বা রুটি, সবজি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে। মাছ, ডিম, ডাল বা পরিমিত মাংস হতে পারে প্রোটিনের উৎস।
ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করা ভালো। রাতের খাবার ও ঘুমের মধ্যে কিছুটা সময় রাখা শরীরের জন্য আরামদায়ক হতে পারে।
সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। তবে সবার পানির চাহিদা এক নয়। আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করতে হবে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের পরিবর্তে পানি, চিনি ছাড়া পানীয় বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো।
স্বাস্থ্যকর ডায়েট মানে শুধু কিছু খাবার বেশি খাওয়া নয়; কিছু খাবার কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি, অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত পানীয় নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, সবার জন্য একই ডায়েট চার্ট কার্যকর নয়। ওজন কমানো, ওজন বাড়ানো, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে খাবারের তালিকা পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। তাই বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগত লক্ষ্য থাকলে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে নিরাপদ।