
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের ৪০ দিন পূর্তিতে তাকে স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দিনটিকে শত্রুদের ‘ভয়াবহ অপরাধ’-এর স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেন।
মোজতবা বলেন, ইসলাম ও ইরানের শত্রুদের পৈশাচিক হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা, ইসলামিক উম্মাহর পথপ্রদর্শক এবং ইরানের প্রতিরোধের প্রতীক আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাতের ৪০ দিন পূর্ণ হলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে তার মৃত্যু হওয়ার পর থেকেই দেশটি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘ দুই দশক ধরে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে চলা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানা ২১ দিনের সংলাপ হলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়।
এর পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, মার্কিন বাহিনী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং একই সময়ে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে ছিলেন। ওই হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও প্রাণ হারান। মোজতবা নিজেও আহত হন, তবে পরে তাকেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা তৈরি হয়। কিছু বিদেশি সংবাদমাধ্যমে তাকে গুরুতর আহত বলা হলেও ইরানি সূত্রগুলো জানায়, তার পায়ে আঘাত লেগেছে, যা প্রাণঘাতী নয়।
বর্তমানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন মোজতবা খামেনি। গত ১২ মার্চ একটি রুশ সামরিক বিমানে তিনি সেখানে পৌঁছান এবং সেখান থেকেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ও শোকসংক্রান্ত বার্তা পরিচালনা করছেন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসা খামেনির দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে এই যুদ্ধে।
নিজ বার্তায় মোজতবা খামেনি জনগণকে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এই শাহাদাতের স্মৃতিকে প্রতিরোধের শক্তিতে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে তার এই বার্তা ইরানের জনগণের মধ্যে নতুন আবেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো থেকে দেওয়া এই বক্তব্য মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখার একটি প্রচেষ্টা। ৪০ দিনের শোকপর্ব শেষে নতুন নেতৃত্বে ইরান কোন পথে এগোবে, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এএফপি ও ফার্স্টপোস্ট।