
প্রখর গরমের মধ্যেই শীতবস্ত্র বিতরণ—রাজশাহীর পবা উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগ ঘিরে দেখা দিয়েছে বিস্ময় ও অসন্তোষ।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে পবা উপজেলা মডেল মসজিদের পার্কিং এলাকায় এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপকারভোগীদের অভিযোগ, এসব কম্বল শীত মৌসুমেই পাওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মধ্যে একটি করে কম্বল দেওয়া হচ্ছে। বড়গাছি ও নওহাটা পৌরসভার মসজিদভিত্তিক তালিকা তৈরি করে এই বিতরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর আওতায় বড়গাছিতে ২০৮ জন এবং নওহাটা পৌরসভায় ২৩০ জনকে কম্বল দেওয়া হয়েছে। পুরো উপজেলায় মোট ১ হাজার ২৫০টি কম্বল বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শেষ করার কথা।
তবে গরমের সময় কম্বল পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। নওহাটা পৌরসভার বায়াপাড়া এলাকার এক মসজিদের ইমাম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ঈদের উপহার দেওয়া হবে বলে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এসে দেখি, কম্বল দেওয়া হচ্ছে। এই গরমে কম্বল দিয়ে কী করব? শীতের সময় পেলে বেশি উপকার হতো।”
এটিকে চরম অব্যবস্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করে বড়গাছি এলাকার ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, গরমের মধ্যে কম্বল বিতরণের কোনো যৌক্তিকতা নেই। পুঠিয়াপাড়া এলাকার মুয়াজ্জিন কবির হোসেনও বলেন, শীতের সময় না দিয়ে এখন দেওয়ায় তা ব্যবহার করা সম্ভব নয়, সংরক্ষণ করেই রাখতে হবে।
এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মুসলেহ উদ্দিন জানান, নির্বাচনী বিধিনিষেধ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কম্বল বিতরণে বিলম্ব হয়েছে। নির্বাচনের পর রমজান শুরু হলে অনেক ইমাম-মুয়াজ্জিন উপস্থিত হতে চাননি, ফলে এখন এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উপজেলার জন্য প্রায় ১ হাজার ২৫০টি কম্বল বরাদ্দ রয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলো বিতরণ করা হচ্ছে।
মুসলেহ উদ্দিন আরও জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে গরমে শীতবস্ত্র বিতরণ বেমানান মনে হওয়ায় তিনি উপস্থিত হননি। সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় এখনই কম্বলগুলো বিতরণ করা হচ্ছে।