
রাত পোহালেই জাতীয় নির্বাচন। ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন অসংখ্য মানুষ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টানা ছুটি। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে বাড়ি ফেরার এই স্বস্তির মাঝেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবহন শ্রমিকদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিভিন্ন রুটে পর্যাপ্ত বাস থাকলেও অধিকাংশ যাত্রীর অভিযোগ—নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।
যশোর-খুলনাগামী ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জানান, গত রাত পর্যন্ত যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ ছিল। আজ ভিড় কিছুটা কমলেও যাত্রী আসা অব্যাহত রয়েছে এবং পর্যাপ্ত বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মাগুরা-ঝিনাইদহগামী উত্তরা পরিবহনের কর্মী আলামিন বলেন, “অধিকাংশ যাত্রী গতকালই চলে গেছেন। আজও অনেকে যাচ্ছেন। বাসের কোনো সংকট নেই।”
তবে বাসের সংকট না থাকলেও বাড়তি ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। মাছকান্দিগামী যাত্রী মো. আশিক বলেন, “স্বাভাবিক সময়ে ৪০০ টাকা ভাড়া, আজ নেওয়া হয়েছে ৫০০ টাকা। কেন বেশি রাখা হচ্ছে—জানতে চাইলেও সন্তোষজনক উত্তর পাইনি।”
কুষ্টিয়াগামী যাত্রী সেলিম মিয়া জানান, “অন্য সময় ৪৫০ টাকায় কুষ্টিয়া যেতাম। আজ ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। কাউন্টারে সবার কাছ থেকেই বাড়তি ভাড়া রাখা হচ্ছে।”
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, ঢাকা থেকে বাস পূর্ণ যাত্রী নিয়ে গেলেও ফেরার পথে অধিকাংশ বাস খালি আসছে। ফলে তেল খরচ, টোল ও কর্মীদের বেতন মেটাতে ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।
রয়্যাল পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা মোর্শেদ বলেন, “গাবতলী থেকে বাস ভরে গেলেও ফেরার সময় যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। খরচ তুলতেই ভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে।”
জামান পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক বলেন, “ঢাকা ছাড়ার সময় বাস বোঝাই থাকলেও ফেরার সময় খালি আসছে। তেল খরচ ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় ভাড়া সামান্য বাড়ানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় আইনত দণ্ডনীয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।