
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের একদফা দাবিতে রাজধানী নতুন দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন আরও মারমুখী ও তীব্র রূপ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকেই নতুন উদ্যমে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।
গতকাল বুধবার সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস আন্দোলনের অনড় অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন:
"শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনো আপস হবে না এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"
তিনি আরও জানান, আন্দোলন চলাকালে একাধিকবার অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সাথে তাঁর কথা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রাখার ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেছেন।
একই দিনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনের রণকৌশল নিয়ে বলেন:
"আমাদের আন্দোলনের শক্তি নিহিত রয়েছে শান্তি ও অহিংসায়। সরকারের নির্মম দমন-পীড়নের পরও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিটি সমর্থক অসাধারণ ধৈর্য, সাহস ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের নিয়ে আমি গর্বিত।"
বৃহস্পতিবার আন্দোলনস্থল থেকে অভিজিৎ দীপকে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে তোপ দাগিয়ে অভিযোগ করেন:
"বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে ইচ্ছাকৃতভাবে আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।"
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন:
"আমরা এখানে এক মাস ধরে অবস্থান করছি। এই এক মাসে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এখন আন্দোলনটি বড় হয়ে ওঠায় বিজেপি বাইরে থেকে গুন্ডাদের এনে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে উসকে দিচ্ছে।"
নিজের দাবির ব্যাপারে দৃঢ় থেকে তিনি আরও যোগ করেন:
"আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করব না। সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে আমরা বৃথা যেতে দেব না।"
উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৬টি মেট্রো স্টেশনের মূল প্রবেশদ্বার ও ট্রেন চলাচল স্থগিত করেছে। তবে যাত্রী ভোগান্তি কমাতে রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে লাইন পরিবর্তনের (ইন্টারচেঞ্জ) সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে।
এদিকে, গত ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে সিজেপির পদযাত্রা চলাকালে পুলিশি টিয়ারশেল ও পেলেট গানের গুলিতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির নাজাফগড়ের ১৯ বছর বয়সী তরুণ সাহিল লোচাব গুরুতর আহত হন। এআইআইএমএস (AIIMS) জয় প্রকাশ নারায়ণ অ্যাপেক্স ট্রমা সেন্টারে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর শরীর থেকে পেলেট অপসারণ করা হলেও, তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
অন্য এক প্রসঙ্গে অনশনরত সোনম ওয়াংচুক বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ওপর কেন্দ্রীয় সরকার ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আইনি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে না—এমন স্পষ্ট ও সরাসরি লিখিত নিশ্চয়তা দিলেই কেবল তিনি তাঁর আমরণ অনশন ভাঙবেন।
আন্দোলন দমাতে দিল্লি পুলিশ ইতোমধ্যে অজ্ঞাতপরিচয় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, এর মধ্যে সংসদ মার্গ থানায় ৪টি, কনট প্লেস থানায় ৩টি এবং মন্দির মার্গ, কর্তব্য পথ ও বারাখাম্বা রোড থানায় ১টি করে মামলা নথিবদ্ধ করা হয়েছে।