
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ও এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এসব দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শিবির তাদের কর্মীদের পরিচয় গোপন রেখে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে তারা শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
এসময় ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, সম্প্রতি ক্যাম্পাসের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতারণা ও সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে তাকে শিবিরের কর্মী হিসেবে অস্বীকার করা হলেও পরে জানা যায়, তিনি সংগঠনটির পদধারী নেতা ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ ওঠার পর ওই শিক্ষার্থী তার ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করে দেন। শিবিরের বর্তমান নেতৃত্বও তাকে কর্মী হিসেবে অস্বীকার করেছে, যা ‘গুপ্ত রাজনীতি’রই বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বরাতে বক্তারা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে তা ভেঙে দিয়েছেন। অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী স্বপ্রণোদিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ‘হানি ট্র্যাপ’ (প্রতারণামূলক কৌশল) ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার ঘটনাও ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিবিরের সব কর্মীর তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা বলেন, কোনো সংগঠনের কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনকেই নিতে হবে।
এসময় ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, আজ যারা শিবির পরিচয়ে ঘুরছে তারা আসলে ছাত্রলীগ ছিল। এরা মূলত হল বানিজ্য, শ্লীলতাহানি ও সকল অপকর্মের সাথে জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এসব গুপ্ত রাজনীতির বিচারের দাবি জানাচ্ছি।