
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে। আবাসিক গ্রাহক, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং শিল্পকারখানা—সব খাতেই গ্যাসের স্বল্পচাপে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় বাসাবাড়িতে রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হচ্ছে এবং শিল্পকারখানাগুলোও উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসাবাড়ির চুলায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে একটি খাবার রান্না করতেই কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় অনেক পরিবার সকালে রান্না করতে না পেরে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার, রাইস কুকার কিংবা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে সংসারের ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও। রাজধানীর অনেক স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত আকারে চলছে। যেসব স্টেশনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই গ্যাস নিতে পারছেন না।
ফলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের আয় কমে যাচ্ছে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগও বাড়ছে।
বাড্ডার বাসিন্দা নাজনীন বলেন, “গ্যাসের চাপ একেবারেই কম। যে পরিমাণ গ্যাস আসে, তাতে রান্না করা খুবই কষ্টকর। একটি খাবার রান্না করতেই অনেক সময় লেগে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তি চলছে।”
রাজধানীর লালবাগ এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আজিজুর বলেন, “পাম্পে গ্যাস পাই না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে বসে থাকতে হয়। গ্যাস নিতেই দিনের বেশিরভাগ সময় চলে যায়। ফলে আয়ও অনেক কমে গেছে।”
শিল্পাঞ্চলগুলোতেও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাসচাপ না থাকায় অনেক কারখানায় বয়লার চালানো যাচ্ছে না। কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, আবার কোথাও সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শিল্প মালিকদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
তাদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের চাপ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে আবাসিক, পরিবহন ও শিল্প—সব খাতেই ভোগান্তি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।